E-Paper

আবার সেই ঠাকুরপুকুরেই দুর্ঘটনা, এ বার মৃত্যু বাইক আরোহীর

এ দিন দেবাশিস ও অরূপ বাড়ি থেকে ইএসআই হাসপাতালের দিকে আসছিলেন। অরূপ সম্পর্কে দেবাশিসের জামাইবাবু।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৩
মৃত অরূপ মণ্ডল।

মৃত অরূপ মণ্ডল।

শনিবার গভীর রাতের পরে সোমবার ভোর। ঠাকুরপুকুর থানা এলাকায় আবারও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এ বার পণ্যবোঝাই একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল এক মোটরবাইক আরোহীর। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর নাম অরূপ মণ্ডল (৪০)। গুরুতর জখম হয়েছেন বাইকের চালক দেবাশিস স্বর্ণকার (৩৩)। এ দিন ভোর সওয়া পাঁচটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে ডায়মন্ড হারবার রোডে, ইএসআই হাসপাতালের কাছে। এর আগে, শনিবার গভীর রাতে জেমস লং সরণিতে ডাম্পারের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই ডাক্তারি ছাত্র, আনন্দ প্রজাপতি এবং মহম্মদ ফৈয়াজ জামান মালিক। একই থানা এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ দু’টি রাস্তায় পর পর এমন দুর্ঘটনায় সেখানে বেপরোয়া যান নিয়ন্ত্রণে পুলিশি ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন দেবাশিস ও অরূপ বাড়ি থেকে ইএসআই হাসপাতালের দিকে আসছিলেন। অরূপ সম্পর্কে দেবাশিসের জামাইবাবু। ভোর সওয়া ৫টা নাগাদ ওই হাসপাতালের খুব কাছে পণ্যবোঝাই গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে এসে তাঁদের বাইকে ধাক্কা মারে। এর পরে গুরুতর জখম অবস্থায় দু’জনকেই ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অরূপকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুরুতর জখম দেবাশিসকে ওই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অরূপদের বাড়ি কালীতলা থানা এলাকার সোনামুখীতে।

এ দিন বেলা ১২টা নাগাদ ঠাকুরপুকুর থানার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল অরূপের একমাত্র ছেলে রূপম মণ্ডল। সে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। রূপম বলল, ‘‘ঠাকুরমা অনেক দিন ধরে অসুস্থ। তাঁকে ইএসআই হাসপাতালে এনে ডাক্তার দেখানোর জন্যই টিকিট কাটতে ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বাবা। সকালে থানা থেকে খবর পেলাম। হাসপাতালে এসে দেখি, সব শেষ।’’ অরূপের দাদা অসীম মণ্ডল বললেন, ‘‘দেবাশিস খুবই সাবধানে মোটরবাইক চালায়। একটি বেপরোয়া গাড়ি ওদের মেরে দিয়ে চলে গেল। শুনলাম, সেই গাড়িটিকে ধরা যায়নি। আমাদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গাড়িটি এবং চালককে চিহ্নিত করতে হবে। ভাইয়ের এ ভাবে বেঘোরে প্রাণ হারানো কোনও ভাবেই মানতে পারছি না। দেবাশিসও গুরুতর জখম। গাড়িচালকের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি রাতে জেমস লং সরণি এবং ডায়মন্ড হারবার রোড দিয়ে এতটাই বেপরোয়া ভাবে যানবাহন চলে যে, আক্ষরিক অর্থেই প্রাণ হাতে নিয়ে রাস্তা পেরোতে হয়। বিশেষ করে, মোটরবাইক ও স্কুটার দুর্ঘটনা হামেশাই ঘটে। তাঁদের দাবি, ওই এলাকা দিয়ে বড় বড় লরি, ট্রাক চললেও সেগুলির গতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি নজরদারি থাকে না। যদিও ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশেরবক্তব্য, জেমস লং সরণি এবং ডায়মন্ড হারবার রোডে পর পর দু’টিদুর্ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশের দাবি, ওই এলাকায় নিয়মিত নাকা তল্লাশি হয়। রাতে প্রতিটি মোড়ে ট্র্যাফিক পুলিশ থাকে। যান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুলিশ ট্র্যাফিক বিভাগের সঙ্গে আলাদা ভাবে বৈঠকে বসছে বলে জানানো হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Thakurpukur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy