আমেরিকার আদালতে ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি। তবে পিছু হটছেন না ট্রাম্প। ঘুরপথে আরও জটিল কোনও উপায়ে তাঁর প্রশাসন আমদানি শুল্ক চাপানোর চেষ্টা করতে পারে। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
শুল্কনীতি নিয়ে আগেই আদালতে ধাক্কা খেয়েছিল ট্রাম্পের প্রশাসন। সে দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত আইন প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশের উপর ট্রাম্প যে আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন, তা বেআইনি। এর পরে সাময়িক ভাবে ১০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি সেই শুল্কনীতিও ধাক্কা খেয়েছে আদালতে। নিউ ইয়র্কে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত মার্কিন আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ওই শুল্ক অবৈধ। মার্কিন আইনে ওই শুল্কের কোনও স্বীকৃতি নেই বলে জানানো হয়েছে।
নতুন শুল্কনীতিও আদালতে ধাক্কা খাওয়ার পরে এ বার বিকল্প পরিকল্পনা শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘ব্লুমবার্গ’ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “আমাদের শুধু এগুলোকে আরেকটু জটিল উপায়ে করতে হবে। সেটা আগের মতো ফলপ্রসূ না হলেও আমি আরও বেশি (শুল্ক) আদায় করতে পারব।” তবে তিনি কী উপায়ে নতুন করে শুল্ক আরোপ করবেন, সে বিষয়ে বিশদ কোনও বর্ণনা দেননি ট্রাম্প।
দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পরই নতুন শুল্কনীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যে দেশ মার্কিন পণ্যে যত পরিমাণ শুল্ক চাপিয়েছে, আমেরিকাও সেই পরিমাণ শুল্ক আদায় করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির থেকে। এই নিয়ে বিস্তর টানাপড়েন চলে। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আইইইপিএ আইনের আওতায় ওই শুল্ক আরোপের অনুমোদন নেই। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কর এবং আমদানি শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। যদিও কংগ্রেস চাইলে সেই ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে অর্পণ করতে পারে। এর ফলে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট।
আরও পড়ুন:
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের পরই হোয়াইট হাউস থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘‘সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট (আইইইপিএ) অনুযায়ী, আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আর কার্যকর হবে না। যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করা বন্ধ হবে।’’ যদিও তার পরই ট্রাম্প প্রশাসন, বিভিন্ন দেশের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি আদালতের দ্বারস্থ হয়। সেই মামলার শুনানিতে নিউ ইয়র্কের আদালত জানিয়ে দেয়, ১০ শতাংশ শুল্ক নেওয়া অবৈধ।