সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত পরিতোষ দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বর্ধমান থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কলেজের গর্ভনিং বডির প্রাক্তন সদস্য দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এই পরিতোষের বিরুদ্ধে জোর করে কলেজের একাধিক ঘর বন্ধ করে রাখা, ব্যক্তিগত কাজে সে সব ঘর ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পরিতোষকে হাজির করানো হয়েছিল। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। কী ভাবে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমে রাশি রাশি উই ধরা টাকা এল, কে বা কারা টাকাভর্তি ওই সুটকেসগুলি রেখে গিয়েছিলেন, পরিতোষকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই সে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চাইছে পুলিশ।
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে গত ২ জুন দুপুরে দু’টি সুটকেস উদ্ধার করা হয়। তাতে প্রচুর পরিমাণে নষ্ট হয়ে যাওয়া টাকা ছিল। টাকার নোটগুলি সবই উই ধরা। এর পর রাতে সেখান থেকেই পাওয়া যায় একটি আগ্নেয়াস্ত্র। এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছিল মুচিপাড়া থানার পুলিশ। পরিতোষ ওই কলেজে জিনিসপত্র সরবরাহ (ভেন্ডর) করতেন। তিনি ছাড়াও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন কলেজের খোদ দেবাশিস। তাঁকে পুলিশ খুঁজছে। পরিতোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দেবাশিসের সম্পর্কেও তথ্য জোগাড় করছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ, পরিতোষ এবং দেবাশিস মিলে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে বসে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। জোর করে ওই কলেজের ইউনিয়ন রুম-সহ একতলার একাধিক ঘর তাঁরা বন্ধ করিয়ে দেন। ঘরগুলি নিজেদের কাজে ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘরগুলির চাবি চাইলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হত। ঠিক কী কী কাজে কলেজের ওই ঘর ব্যবহার করা হত, সেখানে এত উই ধরা টাকা কোথা থেকে এল, কেউ বা কারা সেগুলি সেখানে রেখে গিয়েছেন কি না, পরিতোষের কাছে তা জানতে চায় পুলিশ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হবে।
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমের কাছে সাজানো-গোছানো বিলাসবহুল ঘরের সন্ধান মিলেছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সেই ঘরে বিছানাও পাতা ছিল। কলেজের মধ্যে এই ধরনের ঘর কী কাজে লাগে, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।