E-Paper

রাজনৈতিক হোর্ডিংয়ের ‘দাপটে’ বাস দমবন্ধ বাড়িতে, মুক্তি কবে

কলকাতায় যত্রতত্র ব্যানার, হোর্ডিং লাগানোর অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। দৃশ্যদূষণ তো বটেই, এমন হোর্ডিংয়ের জন্য অতীতে বহু দুর্ঘটনাও ঘটেছে।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ০৮:৪৯
আড়াল: তৃণমূল ভবনের উল্টো দিকের বাড়ি ঢেকেছে বিশাল দলীয় হোর্ডিংয়ে। ই এম বাইপাসে।

আড়াল: তৃণমূল ভবনের উল্টো দিকের বাড়ি ঢেকেছে বিশাল দলীয় হোর্ডিংয়ে। ই এম বাইপাসে। ছবি: সুমন বল্লভ।

ঘরে আলো-হাওয়া চলাচলের উপায় নেই। প্রয়োজনে বাইরে দেখারও জো নেই। দৃষ্টিপথ পুরো অবরুদ্ধ। কারণ, বাড়ির গায়ে, জানলা-দরজা— কার্যত সমস্তটাই ঢেকে লাগানো তৃণমূল কংগ্রেসের হোর্ডিং। বিশাল সেই হোর্ডিংয়ে ঝুলছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। ই এম বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটনের যে বাড়ি ঘিরে এই ঘটনা, তার উল্টো দিকেই পাঁচতলা তৃণমূল ভবন। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের দাবি, ওই হোর্ডিং বার বার সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। উল্টে বলা হয়েছে, ‘‘এখানে হোর্ডিংটা থাকবেই। প্রয়োজনে অন্য কোথাও বাড়ি খুঁজে নিন।’’

রাজ্যের পালাবদলের পরে ওই বাড়ির বাসিন্দাদের দাবি, কলকাতা পুরসভাকে তাঁরা বিষয়টি নতুন করে জানিয়েছেন। পুরসভা জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব হোর্ডিং খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই বাড়ির বাসিন্দা অভীক দাস বলেন, ‘‘তৃণমূল ভবনটাই সরে যাবে শুনছি। বাইপাসের ধারে মূল তৃণমূল ভবন তৈরির কাজ যত দিন চলছিল, তত দিন কাজ চালানোর জন্য এখানে বাড়িটা ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরে আর ছাড়েনি। এই হোর্ডিংয়ের জন্য দিনের পর দিন দমবন্ধ অবস্থার মধ্যে থেকেছি, আর নয়।’’

কলকাতায় যত্রতত্র ব্যানার, হোর্ডিং লাগানোর অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। দৃশ্যদূষণ তো বটেই, এমন হোর্ডিংয়ের জন্য অতীতে বহু দুর্ঘটনাও ঘটেছে। দুর্গাপুজোর সময়েও বার বার সামনে আসা হোর্ডিং-যন্ত্রণার অভিযোগের জেরে ২০২৫ সালে নতুন হোর্ডিং নীতি নেয় কলকাতা পুরসভা। তাতে বলা হয়েছে, শহরের কোনও রাস্তায় পথচারীদের দৃষ্টি আটকে হোর্ডিং লাগানো যাবে না। কারও বাড়ির জানলা বা বারান্দা ঢেকেও হোর্ডিং লাগানো নিষিদ্ধ। পুরসভার কিছু ‘নো অ্যাড জ়োন’ রয়েছে। সেখানেও হোর্ডিং নয়। হোর্ডিংটি ধরে রাখার জন্য যে কাঠামো বানানো হয়েছে, তার ধারণ ক্ষমতা পরীক্ষা করে তবেই পুরসভা অনুমতি দেবে। স্থায়ী হোর্ডিং লাগাতে হবে মাটি থেকে ন্যূনতম সাড়ে আট ফুট উচ্চতায়। রাজনৈতিক ব্যানার-হোর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এর কিছুই মেনে চলার বালাই থাকে না বলে অভিযোগ। পুর বোর্ড যাদের, সেই দলের প্রচার-ব্যানার বাবদ কোনও আয়ই হয় না। নতুন সরকারের আমলে যত্রতত্র ব্যানার-হোর্ডিং লাগানোর যন্ত্রণা থেকে কি মুক্তি মিলবে, প্রশ্নটা ঘুরছে।

মেট্রোপলিটনের ওই বাড়ির বাসিন্দা অভীকের ঘরে ঢুকে দেখা গেল, হোর্ডিংয়ের জেরে জানলা দিয়ে আলো আসার উপায় নেই। দিনেও টিউবের আলো ভরসা। ওই বাড়ির নীচের তলার বাসিন্দা কুন্তলশেখর কুণ্ডু বলেন, ‘‘জানলা দিয়ে আলো-হাওয়া ঢোকে না। গরমে দমবন্ধ পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হয়।’’

এলাকাটি কলকাতা পুরসভার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। সেখানকার পুরপ্রতিনিধি জীবনকৃষ্ণ সাহার উদ্যোগেই ওই বাড়ির গায়ে হোর্ডিংটি ঝোলানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জীবনকৃষ্ণ ফোন তোলেননি, টেক্সট মেসেজেরও উত্তর দেননি। মেয়র পারিষদ (বিজ্ঞাপন) দেবাশিস কুমার বলেন, ‘‘আমার কাছে বিষয়টি পৌঁছয়নি। খোঁজ নিচ্ছি।’’ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বললেন, ‘‘মানুষের সমস্যা করে এমন বেআইনি কাজ আর চলবে না। অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে বলছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Visual Pollution Hoardings

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy