সল্টলেকে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় শুক্রবার রাতে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম শিবেন্দ্র সেন (২৯)। এই ঘটনায় আরও দুই অভিযুক্তের খোঁজ করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বিধাননগর উত্তর থানার অধীন খালপাড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। কাজের নাম করে ওই তরুণীকে ডেকে পাঠিয়ে তাঁর উপরে নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তিন জনের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনার পরে আতঙ্কে ছিলেন নির্যাতিতা। পরে আতঙ্ক কাটিয়ে তিনি এক পরিচিতের সহায়তায় বারাসত পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বারাসত থানা জ়িরো এফআইআর দায়ের করে। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে নেমে বারাসত থানার পুলিশ বুঝতে পারে, ঘটনাটি বিধাননগর কমিশনারেট এলাকার। তখন তারা বাগুইআটি থানায় বিষয়টি পাঠায়। সেই মতো বাগুইআটি থানার পুলিশ অভিযোগকারিণীর সঙ্গে কথা বলার পরে স্পষ্ট হয় যে, ঘটনাটি ঘটেছে বিধাননগর উত্তর থানা এলাকায়। সম্প্রতি বিষয়টি এসে পৌঁছয় বিধাননগর উত্তর থানায়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, ওই তরুণী ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হিসাবে কাজ করেন। সেই সূত্রে অভিযুক্ত তাঁকে কাজের অছিলায় ডেকে পাঠায়। অভিযোগ, ঘটনার রাতে সল্টলেকের খালপাড় এলাকায় ওই তরুণী এলে শিবেন্দ্র, তার এক সঙ্গী এবং পরে আরও এক ব্যক্তি এসে তাঁর উপরে নির্যাতন চালায়। ইতিমধ্যে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ শুক্রবার রাতে চিনার পার্কে অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এর পরে সেখান থেকে শিবেন্দ্রকে ধরা হয়। শনিবার তাকে বিধাননগর আদালতে তোলা হলে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। ধৃতকে জেরা করে বাকি দুই অভিযুক্তের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।
তবে প্রশ্ন উঠেছে যে, নির্বাচনের আগে পুলিশি নজরদারি, টহল বেড়েছে সব এলাকায়। তা সত্ত্বেও কী ভাবে এমন ঘটনা ঘটল? পুলিশ সূত্রের খবর, নজরদারি বেড়েছে। কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, জানতে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)