Advertisement
E-Paper

গঙ্গা দূষণে এ বার সরাসরি কেন্দ্রের নজরদারি

কঠিন ও তরল বর্জ্যের থেকে জল দূষণ রোধে গঙ্গার পাড়ের পুরসভাগুলির ভূমিকার ওপরে এবার সরাসরি নজরদারি চালাবে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ সহ গঙ্গার তীর ঘেঁষে থাকা দেশের পাঁচটি রাজ্যের জন্য ওই নির্দেশিকা জারি করা করে হয়েছে।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৫ ১৭:০৪

কঠিন ও তরল বর্জ্যের থেকে জল দূষণ রোধে গঙ্গার পাড়ের পুরসভাগুলির ভূমিকার ওপরে এবার সরাসরি নজরদারি চালাবে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ সহ গঙ্গার তীর ঘেঁষে থাকা দেশের পাঁচটি রাজ্যের জন্য ওই নির্দেশিকা জারি করা করে হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশ পুরসভাগুলিতে অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম বসাতে হবে। যাতে সেই সব পুরসভা এলাকা থেকে নির্গত জলের গুণগত মানের সম্পর্কে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ অবগত থাকে।

গঙ্গার পাড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে নির্গত বর্জ্য জলে গঙ্গার দূষণ ঘটছে। তা রোধ করতে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ বিভিন্ন পুরসভাগুলিকে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলে গত অক্টোবরে নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশ পুরসভাগুলি বাস্তবায়িত করছে কিনা তার ওপরে নজর রাখতেই ওই অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ এসেছে কেন্দ্র থেকে। তবে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদও নজরদারির কাজ চালাবে।

রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানাচ্ছে, কলকাতা, হাওড়া, চন্দননগর পুরসভা সহ ৪৪টি পুরসভা এ রাজ্যে রয়েছে গঙ্গার পাড়ে। কেন্দ্রের নির্দেশে বলা হয়েছে, পুর এলাকাগুলি থেকে নির্গত বর্জ্য জলে প্রতি ১ লিটারে জৈব রাসায়নিক অক্সিজেনের মাত্রা ৩০ গ্রামের নিচে থাকতে হবে। তবে সেই জল গঙ্গায় ফেলা যাবে। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সূত্রে খবর, গঙ্গায় ক্রম বর্ধমান দূষণের কারণে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জৈব রাসায়নিক অক্সিজেনের মাত্রা প্রতি ১ লিটারে ১০ মিলিগ্রামে নামিয়ে আনতে চাইছে কেন্দ্র। কঠিন ও তরল বর্জ্য পরিশোধন করে তা পুর্নব্যবহারের উপযোগী করে তোলার ব্যবস্থা পুরসভাগুলিতে থাকতে হবে। কোনও অবস্থাতেই দূষিত জল আর গঙ্গায় ফেলা চলবে না।

এর আগে এমন অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা কিংবা বর্জ্য পরিশোধন ইউনিট বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলগুলির ক্ষেত্রেও। হলদিয়া, দুর্গাপুর কিংবা এনটিপিসি র মতো বড় বড় চল্লিশটি শিল্পাঞ্চলে তা চালু হয়েছে। সেখান থেকে নির্গত কঠিন কিংবা তরল বর্জ্য প্রকৃতির ওপরে কী প্রভাব ফেলছে তার নজরদারি চলছে সল্টলেকে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ থেকে। এবার পালা পুরসভাগুলির।

রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র জানান, পুরসভাগুলি কেন্দ্রের নির্দেশ কীভাবে পালন করতে চাইছে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড – এই পাঁচটি রাজ্যের জন্য কেন্দ্র এমন নির্দেশিকা জারি করেছে বলে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানিয়েছে।

যদিও ওই পুরসভাগুলির মধ্যে কতগুলি কেন্দ্রের নির্দেশ পালন করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে পর্ষদের আধিকারিকদের মধ্যেই। এক পর্ষদ কর্তা জানান, কলকাতা, হাওড়া আর চন্দননগর ছাড়া বেশিরভাগ পুরসভারই বর্জ্য পরিশোধনাগার তৈরির জায়গা এবং আর্থিক সঙ্গতি নেই। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সঙ্গে কেন্দ্রের নির্দেশ পালন নিয়ে বৈঠকের সময়ই ওই সব পুরসভার পুর- কর্তারা পর্ষদ আধিকারিকদের তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

বরাহনগর পুরসভার চেয়ার পার্সন অপর্ণা মৌলিক বলেন,‘‘ পরিশোধনাগার তো রাজ্যের কোনও পুরসভাতেই নেই। আমরা এর আগে কেন্দ্র এবং রাজ্য-উভয়ের কাছেই আবেদন করেছিলাম। আর্থিক সাহায্য পেলে কেন্দ্রের নির্দেশ মানতে সমস্যা নেই।’’

একই কথা জানিয়েছেন মালদার ইংলিশ বাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরিও। তিনি বলেন, ‘‘পরিশোধনাগার তৈরির আর্থিক ক্ষমতা নেই। কেন্দ্র সাহায্য করলে পরিশোধনাগার তৈরি করা যেতে পারে।’’

শহরতলী কিংবা জেলার পুরসভাগুলির এমন দুর্বল অবস্থার কথা জানা আছে পর্ষদের। ফলত একাধিক পুরসভাকে একসঙ্গ নিয়ে কোনও পরিকল্পনা করা যায় কিনা তারও চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানাচ্ছে, হুগলি জেলার বৈদ্যবাটির দীর্ঘাঙ্গীতে কেএমডিএ বর্জ্য পরিশোধন ও তার রিসাইকেলিং এর জন্য একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছে। যেখানে বৈদ্যবাটি, শ্রীরামপুর, রিষরা, কোন্নগর, উত্তরপাড়া এবং চাঁপদানি পুরসভার ময়লা একসঙ্গে ফেলা হচ্ছে।

দক্ষিণ দমদম এলাকার প্রমোদগড়েও একইরকম প্রকল্প তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। সেখানে দক্ষিণ দমদম, দমদম, উত্তর দমদম মধ্যমগ্রাম সহ বেশ কয়েকটি পুরসভার ময়লা এক জায়গায় একত্র করে তা থেকে বিকল্প শক্তি উৎপাদনের চিন্তাভাবনা শুরু করেছে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy