খাস কলকাতায় চলল গুলি। রবিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ রবীন্দ্র সরোবর থানার কাছে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডে চলল দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। অভিযোগ উঠেছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর দলের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ। তাদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে তারা। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার গোলপার্কের কাছে পঞ্চাননতলায় একটি ক্লাবের পিকনিক হচ্ছিল। সেখানে সন্ধ্যার দিকে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি হয় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বেঁধে এলাকায় চড়াও হয়। চলে গুলি ও বোমা। হামলা করা হয় ধারালো অস্ত্র নিয়েও। রাস্তায় পুলিশের গাড়ি এবং স্থানীয়দের বাইকও ভাঙচুর করা হয়। ছোড়া হয় ইটও। রাস্তা থেকে গুলির খোল এবং বোমার সুতলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছড়িয়ে রয়েছে চাপ চাপ রক্তও।
অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গণেশ দাস নামের এক জনের বুকে গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। সনৎ সিংহ নামের অপর জনের মাথায় আঘাত লেগেছে। তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
আরও পড়ুন:
সোনা পাপ্পুর দলবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়েরা। এলাকাবাসীর একাংশ জানান, গত গণেশপুজোতেও সোনা পাপ্পুর দল এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছিল। তাঁদের ক্ষোভ, ঢিল ছোড়া দূরত্বে রবীন্দ্র সরোবর থানা। তাও এলাকায় নিরাপত্তা নেই।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এলে, তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়েরা। বৈশ্বানরের দাবি, এলাকায় একটি পিকনিককে ঘিরে অশান্তি হয়। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছোন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। ডেপুটি কমিশনার ভোলানাথ পাণ্ডে জানান, গোটা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি কসবা এলাকাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।