E-Paper

ঠান্ডার দোসর হাওয়া, শীতলতম দিনে জবুথবু শহর

রেকর্ড-পতন উপভোগ করতেও ছাড়ছেন না শহরবাসী। সপ্তাহের কাজের দিন হলেও রাস্তাঘাট ছিল বেশ ফাঁকা। রাস্তায় গাড়িও ছিল হাতে গোনা। গণপরিবহণেও যাত্রী-সংখ্যা অন্যান্য কাজের দিনের তুলনায় ছিল কম।

চন্দন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৩

—প্রতীকী চিত্র।

পারদ পতনের সঙ্গে ঠান্ডা হাওয়া— জোড়া ধাক্কায় কার্যত জবুথবু কলকাতা! বর্ষবরণের ছুটি শেষ হয়ে অফিসকাছারি পুরোদস্তুর খুলে গেলেও কুয়াশার চাদর সরিয়ে মঙ্গলবার শহরের ঘুম ভাঙল যেন একটু দেরি করেই। সকাল তো বটেই, বেলা পর্যন্ত শহরের রাস্তাঘাটও ছিল অনেকটাই ফাঁকা। পরের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও কনকনে ঠান্ডায় কবে কলকাতার এমন জবুথবু অবস্থা হয়েছে, তা মনে করতে গিয়ে কার্যত স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন শহরবাসীর বড় অংশ।

টি-টোয়েন্টির ধাঁচে শুরু হয়েছে শীতের ব্যাটিং। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই শীত রেকর্ড ভেঙেছে। মঙ্গলবার ছিল মরসুমেরশীতলতম দিন, জানানো হয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে। আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, এ দিন শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৭ ডিগ্রি কম। দমদমের তাপমাত্রা ছিল আরও কম। সেখানে এ দিন ভোর থেকেসকালের মধ্যে তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করেছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। সপ্তাহের মধ্যভাগে এই তাপমাত্রা কলকাতায় আরও নামতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে, এখনই যে শীত থেকেরেহাই পাওয়ার উপায় নেই, তা কার্যত নিশ্চিত ভাবে বলে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা।

যদিও পারদের এই রেকর্ড-পতন উপভোগ করতেও ছাড়ছেন না শহরবাসী। সপ্তাহের কাজের দিন হলেও রাস্তাঘাট ছিল বেশ ফাঁকা। রাস্তায় গাড়িও ছিল হাতে গোনা। গণপরিবহণেও যাত্রী-সংখ্যা অন্যান্য কাজের দিনের তুলনায় ছিল কম। অল্প সংখ্যক লোকজনই বিভিন্ন কাজে বাইরে বেরিয়েছিলেন। একাধিক শীত-পোশাক পরে থাকায় চেনা মানুষকেও এ দিন চিনতে বেগ পেতে হয়েছে। শহরের রাস্তাঘাট ঘুরে কোথাও দেখা গিয়েছে, লোকজন জড়ো হয়ে আগুন পোহাচ্ছেন, কোথাও নজরে এসেছে, ঠান্ডায় আরাম পেতে গরম চায়ে চুমুক দিচ্ছেন অনেকে। সকালের দিকে রাস্তায় কুয়াশা থাকায় গাড়ির গতি ছিল তুলনামূলক ভাবে কম। সকাল পেরিয়ে বেলার দিকে কিছুটা রোদের দেখা মিললে এই জবুথবু পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

ছুটি না থাকলেও তীব্র ঠান্ডা উপভোগ করতে অনেকেই আবার এ দিন ময়দান, ভিক্টোরিয়া, সায়েন্স সিটিতে ঢুঁ মেরেছেন। গঙ্গার ধারেও ছিল চেনা ভিড়। সায়েন্স সিটির একাধিক ‘জয়রাইড’ উপভোগ করতেও অনেককে দেখাগিয়েছে এ দিন। রাইড চড়ার পরে পরিবার নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মধ্যমগ্রামের তন্ময় সান্যাল। তিনি বললেন, ‘‘উপরে এমন কুয়াশা যে, দূরের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সায়েন্স সিটিতে এসে মনে হচ্ছে, দার্জিলিঙে রয়েছি।’’ একই ছবি ছিল ময়দান, ভিক্টোরিয়া চত্বরেও। এ দিন ভোর থেকে ময়দান-ভিক্টোরিয়া চত্বর ছিল কুয়াশায় ঢাকা। শীত উপভোগ করতে সকাল সকাল অনেকে ময়দানে এসেছিলেন। ময়দানে গোল হয়ে বসে কবে কলকাতায় এমন শীত পড়েছে, তা নিয়ে কার্যত তর্ক করতে দেখা গেল কয়েক জনকে। শীতের পোশাকে মুখ ঢাকতে ঢাকতেই তাঁদের এক জন বললেন, ‘‘কলকাতায় তো গত কয়েক বছর ঠান্ডা উপভোগই করা যাচ্ছিল না। এ বার পূর্বাভাস মিলিয়ে শীত পড়ছে। শীতের এই ইনিংসটা লম্বা হলেই দেখছি ভাল।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Weather Weather Report

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy