E-Paper

পালাবদলের পরে হাল ফিরবে শ্যামাপ্রসাদের স্কুলের? আশায় কর্তৃপক্ষ

প্রধান শিক্ষক স্কুলের আলমারি থেকে পুরনো নথি বার করে দেখালেন। তাতে যে সমস্ত মেধাবী ছাত্র ১৯১১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত স্কলারশিপ পেয়েছেন, তাঁদের নামের তালিকা রয়েছে। যার মধ্যে আছে শ্যামাপ্রসাদের নামও।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৭:২২
বিবর্ণ: এমনই জীর্ণ দশা ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের ক্লাসঘরের। মঙ্গলবার।

বিবর্ণ: এমনই জীর্ণ দশা ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের ক্লাসঘরের। মঙ্গলবার। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী।

স্কুলে শিক্ষকদের বসার ঘরে টাঙানো রয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি। সেটির দিকে তাকিয়ে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক রাজা দে বললেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ শুধু আমাদের স্কুলের ছাত্রই ছিলেন না, ছিলেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির প্রেসিডেন্টও। মেধাবী পড়ুয়া। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯১৭ সালে ম্যাট্রিক পাশ করা পর্যন্ত এই স্কুলেই পড়েছিলেন। ম্যাট্রিকে ভাল ফল করায় ১০ টাকা স্কলারশিপও পান।’’

প্রধান শিক্ষক স্কুলের আলমারি থেকে পুরনো নথি বার করে দেখালেন। তাতে যে সমস্ত মেধাবী ছাত্র ১৯১১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত স্কলারশিপ পেয়েছেন, তাঁদের নামের তালিকা রয়েছে। যার মধ্যে আছে শ্যামাপ্রসাদের নামও। সেখানে লেখা, ১৯১৭ সালে শ্যামাপ্রসাদ স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। আর একটি নথিতে দেখা গেল, শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির পঞ্চমপ্রেসিডেন্ট। ম্যাট্রিক পাশ করার সময়ের কিশোর শ্যামাপ্রসাদের ছবিও রয়েছে সেখানে।

শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিবিজড়িত মিত্র ইনস্টিটিউশন অবশ্য এত দিন আলাদা করে কোনও গুরুত্ব পায়নি। সাধারণ একটি সরকার-পোষিত স্কুলের মতোই এই স্কুল। একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে জল পড়ে ক্লাসঘরে। জীর্ণ স্কুল ভবনের দিকে তাকিয়ে সেখানকার শিক্ষকদের প্রশ্ন, নতুন সরকার তো শ্যামাপ্রসাদকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। তা হলে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্কুলের বেহাল দশা কি এ বার খানিকটা ফিরবে?

প্রধান শিক্ষক জানালেন, শ্যামাপ্রসাদ থাকতেন স্কুলের কাছেই আশুতোষ মুখার্জি রোডে। আর মিত্র ইনস্টিটিউশন হরিশ মুখার্জি রোডে। রাজা বললেন, ‘‘সেই আমলের ক্লাসঘরই এখনও রয়েছে। কিন্তু, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই ক্লাসঘরগুলিরই এখন বেহাল দশা। স্কুলে পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল খাওয়ানোর আলাদা কোনও ঘর নেই। বারান্দায় টিনের ছাউনি রয়েছে। সেখানেই খাওয়াদাওয়া হয়। এক হাজারেরও বেশি পড়ুয়া রয়েছে স্কুলে। কিন্তু সেই অনুপাতে পর্যাপ্ত শৌচালয় নেই। শুধু সরকারি কম্পোজ়িট গ্রান্টের টাকায় স্কুলের সংস্কার সম্ভব নয় বলেই জানালেন রাজা।

তাঁর কথায়, ‘‘এমনিতেই তৃণমূলের আমলে কম্পোজ়িট গ্রান্ট অনিয়মিত ছিল। যেটুকু কম্পোজ়িট গ্রান্ট পাওয়া যেত, তাতে স্কুল ভবনের সংস্কারের কাজ করানো যায়নি। সাধারণ কিছু মেরামতি করানো গিয়েছে মাত্র। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।’’

রাজা জানালেন, শুধু স্কুল ভবনের মেরামতিই নয়, ক্লাসঘরে টাঙানো শ্যামাপ্রসাদ এবং তাঁর বাবা আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বড় বড় দু’টি ছবিও বিবর্ণ হয়ে গিয়েছে। রাজা বলেন, ‘‘ওই ছবি দু’টি ঠিক করতে যা খরচ লাগবে, সেই টাকাও স্কুলের তহবিলে নেই।’’

সরকারি আরও বহু স্কুলের মতো মিত্র ইনস্টিটিউশনে শিক্ষকেরও অভাব রয়েছে বলে জানালেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কলা বিভাগে স্থায়ী কোনও শিক্ষক নেই। আংশিক সময়ের শিক্ষকদের দিয়েই ক্লাস করানো হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে ওই স্কুলে রসায়নের শিক্ষক নেই। স্কুলের গ্রন্থাগারের জন্য যে এক লক্ষ টাকা অনুদান পাওয়ার কথা, সেই টাকার জন্য আবেদন করেও আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

রাজা বলেন, ‘‘বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে কলকাতার কয়েকটি স্কুলকে পিএমশ্রী স্কুল করার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। আমরাও আবেদন করেছিলাম। আমাদের স্কুলে পর্যাপ্ত পড়ুয়াও আছে। কিন্তু পিএমশ্রী স্কুল করার জন্য আমাদের স্কুলকে মনোনীত করা হয়নি।’’

তবে, বর্তমান সরকারের আমলে শ্যামাপ্রসাদের স্কুলের হাল ফিরবে, এই আশাতেই বুক বেঁধেছেন স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে পড়ুয়ারা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal government Mitra Institution Bhawanipore

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy