E-Paper

পুর কোষাগারের অবস্থা সঙ্গিন, চলতি অর্থবর্ষেও সম্পত্তিকর আদায়ে ভাটা

পুরসভা সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৫-এর ৩১ মার্চ পর্যন্ত সম্পত্তিকর বাবদ মোট আদায়ের পরিমাণ ছিল ১২৬০ কোটি ২৮ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৪৫ টাকা।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৪

—প্রতীকী চিত্র।

কলকাতা পুরসভার কোষাগারের অবস্থা বহু দিন ধরেই সঙ্গিন। গত বছরের মার্চ মাস থেকে পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা অবসরকালীন থোক টাকা (কমিউটেশন ও গ্র্যাচুইটি) থেকে বঞ্চিত। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ঠিকাদারেরা তাঁদের পাওনা টাকা পাচ্ছেন না। পুর আয়ের বেশির ভাগটাই আসে সম্পত্তিকর থেকে। চলতি অর্থবর্ষ শেষ হতে দেড় মাসের একটু বেশি বাকি। কিন্তু এ বছর এখনও পর্যন্ত সম্পত্তিকর আদায়ের পরিমাণ গত আর্থিক বছরের নিরিখে আশানুরূপ না হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে পুরকর্তাদের! পুর আধিকারিকদের একাংশের প্রশ্ন, এই অবস্থায় অস্থায়ী পুরকর্মীরা সময় মতো বেতন পাবেন তো? কারণ, পুরসভায় স্থায়ী কর্মীর তুলনায় অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা বেশি। অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের পুরো টাকাটাই পুরসভার কোষাগার থেকে দিতে হয়।

পুরসভা সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৫-এর ৩১ মার্চ পর্যন্ত সম্পত্তিকর বাবদ মোট আদায়ের পরিমাণ ছিল ১২৬০ কোটি ২৮ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পরিমাণ ১১৬৪ কোটি ৬১ লক্ষ ২১ হাজার ৭৬৩ টাকা। অর্থাৎ, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষের তুলনায় চলতি অর্থবর্ষের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সম্পত্তিকর আদায় কমেছে ৯৫ কোটির মতো। যদিও পুরসভার সম্পত্তিকর বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, ‘‘চলতি অর্থবর্ষ শেষ হতে এখনও দেড় মাসের উপরে বাকি। আমাদের ধারণা, অর্থবর্ষের শেষ দিকে আদায়ের পরিমাণ বেড়ে গত বছরকে টেক্কা দেবে।’’ তবে, পুর আধিকারিকদের একাংশের প্রশ্ন, ‘‘অর্থবর্ষের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কেন? আদায়ের পরিমাণ এরই মধ্যে আগের বছরকে পেরিয়ে গেল না কেন?’’ বিরোধী দলগুলির পুরপ্রতিনিধিদের দাবি, পুরসভার আয়ের তুলনায় খরচের বহর বেশি। সেই কারণেই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা হকের টাকা পাচ্ছেন না। ঠিকাদারেরাও অফিসারদের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এই অবস্থায় সম্পত্তিকর বাবদ আদায় আশাব্যঞ্জক না হওয়া মানে সমস্যা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকবে।

পুরসভা সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতা (এসি নর্থ), টিটিডি (টলি ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট) এবং গার্ডেনরিচ ইউনিটে (জিআরইউ) সম্পত্তিকর আদায় সন্তোষজনক নয়। দক্ষিণ কলকাতা (এসি সাউথ) এবং জোকা সংলগ্ন এলাকাতেও সম্পত্তিকর আদায় কমেছে। সম্পত্তিকর আদায় বাড়াতে মেয়র ফিরহাদ হাকিম সম্প্রতি ওই বিভাগের সমস্ত আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। তাঁদের বলা হয়েছে, নিজেদের এলাকার মূল্যায়ন না-হওয়া সমস্ত সম্পত্তির অবিলম্বে মূল্যায়ন করতে হবে। শহরের বহু আবাসনেরই অনেক ফ্ল্যাটের মিউটেশন হয়নি। পুরসভার তরফে জরুরি ভিত্তিতে সেই সমস্ত আবাসনে শিবির করে মিউটেশন করতে আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন মেয়র।

পুরসভায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কর্মী রয়েছেন। স্থায়ী কর্মী প্রায় ১৫ হাজার। অস্থায়ী কর্মী প্রায় ২০ হাজার। স্থায়ী কর্মীদের বেতনের ৮০ শতাংশ দেয় রাজ্য সরকার। বাকি ২০ শতাংশ পুরসভা। কিন্তু বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী কর্মীকে নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। কারণ, তাঁদের পুরো বেতনই পুরসভার কোষাগার থেকে দিতে হয়। পুরসভার অর্থ বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘হাতে আর মাত্র দেড় মাসের উপরে বাকি। গত অর্থবর্ষের তুলনায় এই দেড় মাসে সম্পত্তিকর আদায় হয়তো বাড়বে। কিন্তু কতটা?’’ আর এক পুর আধিকারিকের কথায়, ‘‘পুরসভার আয়ের তুলনায় খরচের বহর বেশি। মোটা টাকার করখেলাপিরা পুরসভার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ফলে, সম্পত্তিকর আদায় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

KMC Kolkata Municpal Corporation

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy