Advertisement
E-Paper

লিফ্‌ট ফাঁকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, বললেন সরকারি আইনজীবী, ধৃতদের আবার পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

জামিনের বিরোধীতা করে সরকারি কৌশলির বক্তব্য, লিফ্‌টম্যানদের একটি নির্দিষ্ট দায়িত্বে রাখা হয়। তাঁদের লাইসেন্স থাকে। কিন্তু ঘটনার সময় তাঁরা লিফ্‌ট ফাঁকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তালা খুলতেও দেরি করা হয়েছে। প্রশ্ন, তাঁরা কী ভাবে নিজেদের দায়িত্ব ছেড়ে লিফ্‌ট ফাঁকা রেখে চলে যান?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৩:৫৪

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আরজি কর হাসপাতালে লিফ্‌ট-কাণ্ডে ধৃত পাঁচ জনকে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে থাকার নির্দেশ দিল আদালত। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন তিন জন লিফ্‌টম্যান এবং দু’জন নিরাপত্তারক্ষী।

শুক্রবার আদালতে অভিযুক্ত পক্ষের এক আইনজীবীর বক্তব্য, “এই ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত ভাবে ঘটেছে। এর পিছনে কোনও কারণ নেই। ঘটনার সময় সিআইএসএফ এবং পুলিশকর্মীরাও ছিলেন। তা হলে শুধু এই পাঁচ জনকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে?” আর এক অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী বলেন, “ঘটনার সময় তাঁর মক্কেল ওটির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।” তাঁর মক্কেল কী ভাবে এই ঘটনায় জড়িত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী। পাশাপাশি, পাঁচ জনের জামিনের আবেদন করা হয়েছে আদালতে।

জামিনের বিরোধীতা করে সরকারি কৌশলির বক্তব্য, লিফ্‌টম্যানদের একটি নির্দিষ্ট দায়িত্বে রাখা হয়। তাঁদের লাইসেন্স থাকে। কিন্তু ঘটনার সময় তাঁরা লিফ্‌ট ফাঁকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তালা খুলতেও দেরি করা হয়েছে। প্রশ্ন, তাঁরা কী ভাবে নিজেদের দায়িত্ব ছেড়ে লিফ্‌ট ফাঁকা রেখে চলে যান?

অন্য দিকে, নিহতের পরিবারের আইনজীবী শুভজ্যোতি দত্ত বলেন, “কোনও লিফ্‌টম্যানই বলতে পারেন না একটি লিফ্‌টের দুর্ঘটনায় তাঁর কোনও দায়িত্ব নেই, যেখানে তিনি ডিউটিতে ছিলেন। কে কোন লিফ্‌টের দায়িত্বে ছিলেন, সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু ঘটনার সময়ে ওই লিফ্‌টে যাঁর দায়িত্ব ছিল, তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এত বড় একটি দুঘর্টনা ঘটার পর, কেউ দায়িত্ব এড়িতে যেতে পারেন না।” তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনাটি পুরোটাই গাফিলতির জন্য হয়েছে। এই পাঁচ জন, ছাড়া পুলিশকর্মী, সিআইএসএফ জাওয়ান-সহ আরও যাঁরা ওই ঘটনার সময়ে দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকে তদন্তের আওতায় আনা হোক।”

শিশুপুত্রের চিকিৎসার জন্য আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে গিয়েছিলেন অরূপ। গত শুক্রবার ভোরে লিফ‌্ট থেকে উদ্ধার করা হয় আহত অরূপকে। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ৪১ বছরের অরূপের শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর হাত, পা, পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে। তাঁর হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃৎও ফেটে গিয়েছে।

আরজি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, মৃত অরূপের বাবা তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই অভিযোগ টালা থানাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের হয়। পরবর্তী তদন্তের ভার নিয়েছে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা।

RG Kar Case RG Kar Medical College and Hospital Incident
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy