প্রতারণার অভিযোগে প্রোমোটারের বিরুদ্ধে ৩৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিল ক্রেতা সুরক্ষা আদালত।
যাদবপুরের বাসিন্দা সোমনাথ দাস ২০০৮ সালের ১৫ ডিসেম্বরে যাদবপুর ইস্ট রোডে একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য প্রমোটারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি অনুযায়ী, ১৮ মাসের মধ্যে ১১৪৮.২৪ বর্গফুট পরিমাপ বিশিষ্ট তিন রুমের ফ্ল্যাটের চাবি সোমনাথবাবু হাতে পাবেন। ফ্ল্যাটের দাম ধার্য ছিল ১৮,৮২,৭২০ টাকা। চুক্তিমতো প্রথম ন’মাসের মধ্যে সোমনাথবাবু প্রোমোটার চৈতালী ঘোষ দস্তিদারকে ১৭,৫০,৬৮০ টাকা জমাও দিয়ে দেন। কিন্তু অভিযোগ, দেড় বছর পার হলেও প্রোমোটার চৈতালী ঘোষ দস্তিদার সোমনাথবাবুকে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেননি। দক্ষিণ কলকাতায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত সোমনাথ দাস বলেন, ‘‘চুক্তি অনুযায়ী, ১৮ মাসের মধ্যে ফ্ল্যাট পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রায় পুরো টাকা দেওয়ার পরেও ফ্ল্যাট হাতে না পাওয়ায় চৈতালীদেবীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করি। কিন্তু তিনি আমার কথার বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি।’’ সোমনাথবাবুর আরও অভিযোগ, ‘‘ফোন করলে প্রোমোটার ফোন ধরতেন না। কাছে গেলে দুর্ব্যবহার করতেন। এরপর বাধ্য হয়ে ক্রেতা আদালতের দ্বারস্থ হই।’’
বিজয়গড়ের বাসিন্দা প্রমোটার চৈতালী ঘোষ দস্তিদারের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের জুন মাসে রাজ্য ক্রেতা আদালতে প্রতারণার মামলা করেন সোমনাথবাবু। মামলা চলাকালীন বিচারক জানিয়েছিলেন, ওই প্রোমোটার কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারবেন না। অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ২০১৩ সালের মার্চে তৃতীয় ব্যক্তিকে ওই ফ্ল্যাট বিক্রি করে দেন চৈতালীদেবী। রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের বিচারক সমরেশ প্রসাদ চৌধুরী ও মৃদুলা রায় ৮ অক্টোবর নির্দেশ দেন, ‘‘আদালতের নির্দেশ অমান্য করে যেভাবে তৃতীয় ব্যক্তিকে অভিযুক্ত প্রমোটার ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়েছেন তাতে তাঁর জেল, জরিমানা হওয়া উচিত।’’ ৮ অক্টোবর আদালত সাফ জানায়, ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রোমোটারের হাতে চরম হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ক্রেতা সোমনাথ দাস। রাজ্য ক্রেতা আদালতের দুই বিচারক জানান, প্রতিশ্রুতি দিয়ে একজনের থেকে মোটা টাকা নিয়েও ফ্ল্যাট অন্যকে বিক্রি করা মানে ওই প্রোমোটার ঔদ্ধত্য, ছলনা ও বড় প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। বিচারক তাঁদের রায়ে জানান, এক মাসের মধ্যে অভিযুক্ত প্রোমোটারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩৩ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে। যদিও সোমনাথ দাস বলেন, ‘‘আদালতের নির্দেশমতো প্রমোটারের থেকে এখনও ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি।’’ অভিযোগকারীর আইনজীবী প্রশান্ত বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সময়মতো ক্ষতিপূরণ না দিলে অভিযুক্ত প্রোমোটারের বিরুদ্ধে ক্রেতা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ অভিযুক্ত প্রোমোটার চৈতালী ঘোষ দস্তিদারকে একাধিক বার ফোন করেও যোগাযোগ করা যায়নি। এসএমএস করেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।