Advertisement
E-Paper

পাঁচিল চাপা দেহ উদ্ধারে ১৫ ঘণ্টা পার

পাঁচিল চাপা পড়েছিলেন বুধবার রাত ন’টায়। ১৫ ঘণ্টা পরে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। অথচ, দক্ষিণ কলকাতার ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে গিয়েছিল বুধবার রাতেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ অগস্ট ২০১৬ ০১:১০
ধসে পড়া পাঁচিলের নীচে সেই মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার ছবিটি তুলেছেন দেবস্মিতা ভট্টাচার্য।

ধসে পড়া পাঁচিলের নীচে সেই মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার ছবিটি তুলেছেন দেবস্মিতা ভট্টাচার্য।

পাঁচিল চাপা পড়েছিলেন বুধবার রাত ন’টায়।

১৫ ঘণ্টা পরে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ।

অথচ, দক্ষিণ কলকাতার ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে গিয়েছিল বুধবার রাতেই। কড়েয়া থানার ব্রাইট স্ট্রিটের বাসিন্দাদের দাবি, পুলিশকে তাঁরা জানিয়েছিলেন, ওই ভেঙে পড়া পাঁচিলের নীচে চাপা পড়ে রয়েছেন এক ব্যক্তি। বলা হয়, বুধবার সন্ধ্যার ওই ঝড়-বৃষ্টিতে একটি গাছ ভেঙে পড়ে পাঁচিলের উপরে। সেই পাঁচিল তখন ভেঙে পড়ে ফুটপাথে। আর ফুটপাথে তখন গুটিসুটি মেরে শুয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি।

তার পরেও তাঁকে উদ্ধারে ১৫ ঘণ্টা লেগে গেল কেন? সদুত্তর মেলেনি। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘হতেই পারে, সারা রাত হয়তো বেঁচেই ছিলেন ভদ্রলোক।’’

পাঁচিলের নীচে চাপা পড়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি যাঁর, তিনি কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তি নন। তাঁর জন্য গলা ফাটিয়ে ‘বিচার চাওয়া’ বা মোমবাতি মিছিল করার কেউ নেই। তিনি আর পাঁচ জনের মতো চাকরিজীবীও নন। ধ্বংসস্তূপের নীচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চাপা পড়ে থাকা নাম-পরিচয়হীন চল্লিশোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষে করতেন বলেই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, দিনভর ঘোরাঘুরির শেষে প্রতি রাতে এই পাঁচিলের পাশে ফুটপাথেই গুটিসুটি মেরে ঘুমোতেন।

এলাকাবাসীদের দাবি, বুধবার রাত ন’টা নাগাদ ঠিক ওই জায়গাতেই পাঁচিল ভেঙে ফুটপাথে পড়ায় তাঁরা আশঙ্কা করেছিলেন ওই ব্যক্তি চাপা পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন। সে কথা তাঁরা রাতে ঘটনাস্থলে আসা পুলিশকর্মীদেরও জানান। কিন্তু, তিন কুলে কেউ না-থাকা ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে রাত কাবার হয়ে যায়। শেষমেশ বৃহস্পতিবার দুপুরে ধ্বংসস্তূপ সরানো হলে দেখা যায়, মাথা নিচু করে উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছেন ওই ভিক্ষুক। পাঁচিলের তলা থেকে বার করে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বিবেকানন্দ উড়ালপুল ভেঙে পড়ার পরে উদ্ধারকাজে নেমে শহরের পুলিশ, পুরসভা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে কতটা নাকানিচোবানি খেতে হয়েছে, তা দেখেছেন শহরবাসী। কী ভাবে দ্রুত উদ্ধারকাজ করতে হয়, তার জন্য কী রকম পরিকল্পনা প্রয়োজন— তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গিয়েছিল সেনাবাহিনী। কিন্তু তার পরেও একটি ভেঙে পড়া পাঁচিলের তলা থেকে এক জন মানুষকে উদ্ধার করতে এত সময় লাগল কেন, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচিল ভাঙার ঘটনাটি ঘটেছে ঝাউতলা রোড এবং সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউয়ের মোড়ে ‘নদিয়া হাউস’-এ। বা়ড়িটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে ভাড়াও দেওয়া হয়। ভিতরে বিশাল বাগানে একাধিক পুরনো গাছ। বুধবারের ঝ়ড়ে তার মধ্যেই পশ্চিম দিকের একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ বেসামাল হয়ে উপড়ে পড়ে পাঁচিলের উপরে। বহু দিনের পুরনো পাঁচিল গাছটির ভার নিতে পারেনি। সঙ্গে সঙ্গে সেটিও ভেঙে পড়ে।

পুলিশের দাবি, রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পরে সেই পাঁচিলের তলায় কেউ চাপা পড়ে রয়েছেন, তা জানতে পারেননি তাঁরা। পুলিশ নিজেই উদ্ধারকাজে নামে। তখন সেখানে পুরসভা বা বিপর্যয় মোকাবিলার দল ছিল না। পুলিশের দাবি, গভীর রাতে তারাই ওই ভেঙে পড়া পাঁচিলের নীচ থেকে এক মহিলাকে উদ্ধার করে। তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাত আড়াইটে নাগাদ তাঁরা জানতে পারেন যে, ভেঙে পড়া পাঁচিলের তলায় আরও এক জন থাকতে পারে। এক অফিসারের কথায়, ‘‘৩৫ মিটার লম্বা পাঁচিল ভেঙে এত বড় আকারের ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছিল যে, পুলিশের একার পক্ষে তা সরানো সম্ভব ছিল না। তাই ওই রাতেই বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সাহায্য চাওয়া হয়। অন্যত্র কাজ শেষ করে তাদের ব্রাইট স্ট্রিটে পৌঁছতে রাত কাবার হয়ে যায়। পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ওই দলকে নিয়ে পুলিশ উদ্ধারকাজ শুরু করে। তার পরে দুপুর ১২টার পরে ওই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়।

কলকাতা পুরসভার ডিজি বিল্ডিং (২) দেবাশিস চক্রবর্তীর ব্যাখ্যা, পুলিশ মারফত এ দিন সকালে তাঁরা ঘটনার কথা জানতে পারেন। তার পরেই পুরসভার দল পরিদর্শনে যায়। এলাকাটি কলকাতা পুরসভার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয় কাউন্সিলর আরএসপি-র নিবেদিতা শর্মা বলেন, ‘‘এই দুর্ঘটনার পরে পুরসভার বিল্ডিং দফতরকে সংশ্লিষ্ট বাড়ি এবং পাঁচিলের অবস্থা এক বার খতিয়ে দেখে নিতে বলেছি।’’ তিনি জানান, বাড়িটি কোনদিনই বিপজ্জনক হিসেবে নথিবদ্ধ ছিল না।

বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী জাভেদ খান বলেন, ‘‘ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। তবে রাস্তায় নেমে যে দল কাজ করে, তার পুরোটাই পুলিশের অধীনে।’’ তবে ডিসি (এসইডি) গৌরব শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। জবাব দেননি মোবাইলে পাঠানো মেসেজেরও।

Deadbody Rescued Delay
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy