শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারী হিসাবে বিবেচনা করা যায় কিনা, দিন কয়েক আগে তা ভেবে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। যার পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক ভাবে উপকৃত না হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাই বলা হয়েছে।
এর পরেই শিক্ষকদের প্রশ্ন, আর্থিক ভাবে উপকৃত না হলে সরকার পোষিত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের সরকারি কর্মী হিসাবে বিবেচনা করে লাভ কী?
দিন কয়েক আগে বিজেপির শিক্ষা সেলের একটি অনুষ্ঠানে আলিপুরে জাতীয় গ্রন্থাগারে গিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘‘সেই সিদ্ধান্ত নেবে ক্যাবিনেট। শিক্ষকেরা আর্থিক ভাবে উপকৃত না হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। অন্য রাজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যের শিক্ষকেরাও যেন সম্মান পান, সেটা সরকার দেখবে।’’
উল্লেখ্য, রাজ্যে তিন ধরনের সরকারি স্কুল রয়েছে— সরকারি, সরকার পোষিত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত। শুধুমাত্র সরকারি স্কুলের শিক্ষকেরাই সরকারি কর্মীর মর্যাদা পান। বাকি দুই ধরনের স্কুলের শিক্ষকেরা, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা কম পান। দুই দলের মধ্যে বেতনেরও বৈষম্য রয়েছে বলে অভিযোগ।
সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁদের বেতন কাঠামোয় বৈষম্য রয়েছে। ওই সব স্কুলের শিক্ষকদের ৮, ১৬ এবং ২৪ বছরে উচ্চতর বেতন কাঠামো বা উচ্চতর স্কেলে যাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি ছাড়া অন্য কোনও সুবিধা নেই।
অনার্স গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের চাকরিজীবনে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ছাড়াও ১০ এবং ২০ বছরে বিশেষ ইনক্রিমেন্ট হয়। শিক্ষাকর্মী এবং পাস গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে ১৮ বছরে এক বার বেতন স্কেল পাল্টায়। সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের সরকারি শিক্ষক হিসাবে মর্যাদা দিতে হলে এই বেতনক্রম উন্নত করার বিষয়টিও দেখতে হবে।
এ ছাড়াও সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের আর্নড লিভ নেই। সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের মতো তাঁদের হেল্থ স্কিমের সুবিধাও নেই। তার বদলে মাসিক ৫০০ টাকা পাওয়া যায় অথবা স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা আছে। সরকার পোষিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের সরকারি কর্মী হিসাবে বিবেচনা করলে এই সব সুবিধাও দিতে হবে।
‘কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস’-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, ‘‘নতুন সরকারের কাছে অনুরোধ, সমস্ত শিক্ষককে সরকারি কর্মী হিসাবে বিবেচনা করলে বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)