কলকাতার মেট্রোপলিটানের তৃণমূল ভবনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরা যে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন শুক্রবার, তা খুলে ভিতরে ঢুকলেন মালিকপক্ষের সদস্যেরা। শনিবার সকালে বাড়ির মালিকের তরফ থেকে এক জন এসে তালা খোলেন। সূত্রের খবর, ঋতব্রতদের কাছ থেকে চাবি এনে সেই তালা খোলা হয়েছে। দলীয় কার্যালয় কাদের দখলে থাকবে, তা নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমশ আরও প্রকট হচ্ছে।
ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান শনিবার জানিয়েছেন, মেট্রোপলিটানের ওই বাড়ির মালিকের সঙ্গে তৃণমূলের যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে দলের তরফে সই করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গেই রয়েছেন। ফলে এ ক্ষেত্রে তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা-ই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। আখরুজ্জামানের কথায়, ‘‘ফিরহাদ হাকিম আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। তবু আমরা নতুন করে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনতলা এবং চারতলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তা খুলে দিতে অনুরোধ করেছি। সেখানে আমাদের দলের সদস্যেরা বসবেন।’’
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, ভবনের তৃতীয় এবং চতুর্থ তলায় সংস্কারের কাজের জন্য ভিতরে গিয়েছে মালিকপক্ষ। প্রয়োজনীয় নথিও তারা নিয়ে এসেছিল। তা দেখিয়ে ভবনের তালা খোলা হয়।
উল্লেখ্য, তৃণমূল ভবনে শুক্রবার সন্ধ্যায় গিয়েছিলেন ঋতব্রত, ফিরহাদ, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, জাভেদ খানেরা। বেশ কিছু ক্ষণ ভিতরে বসে কথাবার্তা বলেন তাঁরা। তার পর কার্যালয়ে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে চলে যান। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছোন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ঋতব্রতের শিবিরকে তীব্র কটাক্ষও করেন। অভিযোগ, দলীয় কার্যালয় ‘দখল’ করে নিয়েছেন ঋতব্রতেরা। কুণালের দাবি, এই ‘দখলদারি’র নেপথ্যে রাজ্য সরকার এবং পুলিশের মদতও রয়েছে।
মেট্রোপলিটানের ওই কার্যালয়ে শুক্রবার যে প্ল্যাকার্ড ঝোলানো হয়েছে, তাতে দলের চেয়ারপার্সন হিসাবে অরূপ রায়ের নাম রয়েছে। কারও ছবি নেই। অন্য দিকে, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্ল্যাকার্ডে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। কার্যালয়ের ভিতরেও অনেক জায়গায় মমতার ছবি রয়েছে। ঋতব্রতরা অবশ্য তাতে হাত দেননি। মমতাকে পরামর্শদাতা হিসাবে রাখতে চান তাঁরা।