রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের সাত বছরের বকেয়া পেনশন মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া পেনশনের এরিয়ারের টাকা মেটাবে সরকার। চলতি মাসেই মিটিয়ে দেওয়া হবে বকেয়ার ৫০ শতাংশ। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, ২০১৫ সালে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের অনলাইন ব্যবস্থা সুসংহত না থাকায় পেনশনভোগীদের বিপুল টাকা আটকে গিয়েছিল। ফলে গত কয়েক বছর ধরে তাঁরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। বার বার এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। শুক্রবার নবান্নের বৈঠকে সেই পেনশনের বকেয়া টাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্রের খবর, যে সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী এত দিন প্রযুক্তিগত বা অন্য কোনও জটিলতার কারণে পেনশনের এরিয়ারের টাকা পাননি, তাঁরা সকলেই এই সুবিধার আওতায় আসবেন। সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বকেয়া টাকা ঢুকে যাবে।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে আনুমানিক হিসাবের মাধ্যমে বকেয়া পেনশনের ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করে তা মেটানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি ৫০ শতাংশ টাকাও ধাপে ধাপে মেটাবে সরকার। তা দেওয়া হবে সুনির্দিষ্ট অডিটের মাধ্যমে, হিসাব কষে। নবান্নের এই সিদ্ধান্তে খুশি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্য এবং পেনশনপ্রাপকেরা। অভিযোগ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী, পুরসভা, পঞ্চায়েত কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। সরকারের সঙ্গে বৈঠকে এত দিনে সেই জট কাটতে চলেছে।
এ ছাড়া, নবান্নের বৈঠকে হোমগার্ডদের বকেয়া সংক্রান্ত বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে খবর। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বাজেটে সরকারি কর্মীদের ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়। ফলে ডিএ-র পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ শতাংশ। সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তও মঞ্জুর করেছে সরকার। তবে কর্মচারীরা বর্ধিত হারে ডিএ পাবেন অক্টোবর মাস থেকে।