হাতাহাতি, ভাঙচুর, নিগ্রহের বহু ঘটনার সাক্ষী বিধান ভবন। এ বার সেই তালিকায় সংযোজন হল ডিম-বিক্ষোভ!
ভোটের টিকিট বণ্টন ঘিরে ক্ষোভ বা দলের কোনও নেতার প্রতি অসন্তোষে নানা ঘটনা ইতিপূর্বে প্রদেশ কংগ্রেসের দফতরে ঘটিয়েছেন দলের কর্মী-সমর্থকেরা। এ বার সেই বিধান ভবনে বিক্ষোভ হল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন পুর-প্রতিনিধি কংগ্রেসে যোগ দিতে আসায়! প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে পৌঁছে ভিতরে যাওয়া এবং বেরোনোর সময়ে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পুর-প্রতিনিধি তথা বরো চেয়ারপার্সন রেহানা খাতুনের উদ্দেশে উড়ে এল ডিম। শাসক দলে থেকে যাঁরা কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের উপরে হামলা চালানো বা বিরোধী দলের কার্যালয় দখলে অভিযুক্ত, তাঁদের তোনও ভাবেই দলে নেওয়া যাবে না— এই দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। রেহানার সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের প্রবল বচসা, ধস্তাধস্তিও বেধে গিয়েছিল। প্রদেশ নেতাদের একাংশ কোনও মতে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। ডিম থেকে মাথা বাঁচিয়ে গাড়িতে চেপে বিধান ভবন ছাড়তে হয়েছে রেহানাকে।
দু’দিন আগেই কলকাতায় এসে নির্বাচন-উত্তর দলের সমীক্ষা বৈঠকে এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল বলে গিয়েছিলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কিছু মামলা বা অভিযোগ থাকেই। প্রতিহিংসা থেকেও অনেক সময় সে সব হয়ে থাকে। তবে এলাকায় যাঁদের ভাবমূর্তি বা আচরণ নিয়ে তেমন প্রশ্ন নেই, তৃণমূলের এমন নেতা-কর্মীরা শামিল হতে চাইলে কংগ্রেস স্বাগত জানাবে। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের দাবি ছিল, অন্য দলের ‘কলঙ্কিত’ নেতাদের জন্য কোনও ভাবেই কংগ্রেসের দরজা খোলা যাবে না। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তৃণমূলের পুর-প্রতিনিধিদের অধিকাংশই ‘পরিচ্ছন্ন’ তালিকায় পড়েন না। বিক্ষোভের ঘটনার পরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অবশ্য বলেছেন, বিজেপি-বিরোধিতায় যাঁরা আন্তরিক, অন্য দল থেকে তেমন নেতা-কর্মীরা কংগ্রেসে আসতে পারেন। তবে রেহানাকে দলে নেওয়া হবে কি না, সেই বিষয়ে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত হবে।
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে প্রাক্তন পুর-প্রতিনিধির যোগদানের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভ। বিধান ভবনে। —নিজস্ব চিত্র।
এই হট্টগোলের দিনেই বিধান ভবনে কংগ্রেসের আইনজীবী-নেতা ঋজু ঘোষালকে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় সদ্য পাশ হওয়া গুন্ডা-দমন বিলে প্রতিরোধমূলক আটক (১২ মাস পর্যন্ত), উকিল নেওয়ার অধিকার বাতিল, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ক্ষেত্রে আদালতে আবেদন বন্ধের মতো কিছু সংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘পুলিশ-রাজ কায়েমে’র অভিযোগ তুলেছেন শুভঙ্করেরা। তবে বিলে সই না-করার জন্য রাজ্যপালের কাছে তাঁরা আর্জি জানাবেন কি না, সে কথা স্পষ্ট করেননি ঋজু।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)