অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন ছিল বম্বে নেগেটিভ গ্রুপের তিন ইউনিট রক্ত। তা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন রোগীর পরিজনেরা। এ রাজ্য ও মুম্বইয়ের পরে বুধবার কেরল থেকে মিলল সেই তৃতীয় ইউনিট রক্ত। আজ, বৃহস্পতিবার ওই তিন ইউনিট রক্ত নিয়েই সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধের অস্ত্রোপচার হবে এসএসকেএমে।
সম্প্রতি দুর্ঘটনায় উরুর হাড় (ফিমার বোন) ভেঙে যায় তমলুকের বাসিন্দা, ৭৩ বছরের প্রবালকুমার মান্নার। স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তির পরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে, ওই বৃদ্ধের রক্ত বিরল বম্বে-নেগেটিভ গ্রুপের। এর পরে তাঁকে এসএসকেএমে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের জন্য তিনইউনিট রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু দুর্লভ ওই রক্ত মিলবে কী ভাবে, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন রোগীর পরিজনেরা।
তখন খেজুরির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে ‘ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ব্লাড ডোনার্স অর্গানাইজ়েশন’ (এফআইবিডিও)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বৃদ্ধের পরিজনেরা। এর পরে ‘এফআইবিডিও’-এর রাজ্য শাখা থেকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জানানো হলে মহারাষ্ট্র, কেরল, তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকে খোঁজ শুরু হয় ওই রক্তের। কিন্তু কোথাও একসঙ্গে তিন ইউনিট মিলছিল না। শেষে জানা যায়, মুম্বই ও কেরল থেকে মিলতে পারে দুই ইউনিট। সেই মতো প্রথমে মুম্বই থেকে আসে এক ইউনিট রক্ত।
পাশাপাশি, এ রাজ্যের বাসিন্দা বম্বে-নেগেটিভ গ্রুপের এক তরুণী দাতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসএসকেএমে এসে রক্তদান করেন। কিন্তু কিছুতেই মিলছিল না তৃতীয় ইউনিট রক্ত। শেষে কেরলে পাওয়া যায় আরও এক ইউনিট। এ দিন দুপুরে কোচি থেকে উড়ানে সেই রক্ত কলকাতায় আসে। ‘এফআইবিডিও’-এর জাতীয় সভাপতি বিশ্বরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘‘বম্বে পজ়িটিভ গ্রুপের দাতা পাওয়া গেলেও, দেশে বম্বে নেগেটিভ গ্রুপের রক্তদাতার সংখ্যা ১৫-১৭ জন। তাই তিন ইউনিট জোগাড় করা খুবই চ্যালেঞ্জের ছিল।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)