E-Paper

তোলাবাজির অভিযোগে পর পর পুলিশের জালে

রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই তোলাবাজি, হুমকির ঘটনার একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগে ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে বিধাননগর পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ০৯:১৯

— প্রতীকী চিত্র।

ভোটের ফলাফল বেরোনোর পরে এক প্রোমোটারকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে এক তৃণমূল কর্মীকে। ধৃতের নাম অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননী। বিধাননগর এলাকার ওই ঘটনায় প্রোমোটার কিশোর হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আগেই সংশ্লিষ্ট পুরসভার ন’নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সমরেশ চক্রবর্তী ওরফে চিন্টু এবং তৃণমূল কর্মী হেমন্ত চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছিল। ফলে, এ নিয়ে মোট তিন জন গ্রেফতার হলেন। তোলাবাজির অভিযোগে বিধাননগর থেকেও এক দিনেই পর পর চার জনকে গ্রেফতার করা হল।

রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই তোলাবাজি, হুমকির ঘটনার একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগে ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে বিধাননগর পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেল। তোলাবাজির অভিযোগেই বুধবার বিধাননগর পুরসভার পুরপ্রতিনিধি তথা বরো চেয়ারম্যান রঞ্জন পোদ্দারকে গ্রেফতার করে বিধাননগর (উত্তর) থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ এই রঞ্জন। একই অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন রঞ্জনের অনুগামী রানা হালদার। ওই থানায় দায়ের হওয়া আরও একটি তোলাবাজির অভিযোগে সৌমিক দাস ওরফে রাজা এবং বিজয় রাজবংশী বলে দুই ব্যক্তিকে এ দিন গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সল্টলেকের সিটি সেন্টার এলাকায় তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ধৃতেরা বিধাননগরের এক নেত্রীর অনুগামী। এর আগে এই অভিযোগে দত্তাবাদ থেকে অভিজিৎ পোল্লেকে গ্রেফতার করা হয়।

বিজেপির কর্মী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজারহাট-গোপালপুর এলাকায় তোলাবাজির সিন্ডিকেট চলত। সেই কাজে ননী একটি বড় নাম বলে জানা যাচ্ছে। বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ অনুগামী এই ননী।

পুলিশ সূত্রের খবর, নিজেকে বিজেপির কর্মী বলে দাবি করা, তেঘরিয়ার বাসিন্দা তথা প্রোমোটার কিশোর হালদার অভিযোগে জানিয়েছিলেন, ভোটের ফলের পরে বিজয় মিছিল থেকে ফেরার পথে তাঁকে পাঁচ-ছ’জন মিলে হেনস্থা করেন, গালিগালাজ দেন এবং প্রাণে মারার চেষ্টা করেন। কোনও ভাবে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে প্রাণরক্ষা করেন। ২০২৪ সালে এই অভিযোগকারী কিশোরের কাছ থেকেই ৫০ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। পরে তাঁকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনায় কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়।

বিধাননগর কমিশনারেটের এক কর্তা জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এ দিকে, মঙ্গলবার রাতে যখন ননীকে গ্রেফতার করে বাগুইআটি থানার পুলিশ, সেই সময়ে তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে আটক এবং গ্রেফতারির জল্পনা ছড়িয়েছিল। বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে সেই খবর ঘুরতে থাকে। রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির সমাজমাধ্যমের পেজেও তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য দেখা যায়। যদিও পরে বিধাননগর পুলিশ জানায় যে, ওই নেতাকে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেনি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy