আজ, বৃহস্পতিবার হাওড়ায় জেলাশাসকের দফতরে প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে বুধবার হাওড়া পুরসভায় গিয়ে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে পুর পরিষেবার ঘাটতি ও তার কারণ নিয়ে আলোচনা করলেন শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। বৈঠকে ছিলেন হাওড়া পুরসভার বিভিন্ন দফতরের ইঞ্জিনিয়ার ও অফিসারেরা। বৈঠক থেকে বিভিন্ন বিভাগের তথ্য নথিভুক্ত করেন তিনি। পুর এলাকার অনুন্নয়নের পিছনে পুরসভার কর্মী সঙ্কট ও অর্থের অভাবও উঠে আসে। রুদ্রনীল জানান, এ দিনের আলোচনা নির্যাস তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আজ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে বেলুড় মঠে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। সেখান থেকে ফিরে তিনি হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট বিল্ডিংয়ে জেলাশাসক, হাওড়ার পুলিশ কমিশনার, গ্রামীণ পুলিশ সুপার, পুর কমিশনার-সহ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে হাওড়ার সামগ্রিক উন্নতি, হাওড়া ও বালিতে দীর্ঘদিন পুরবোর্ড না থাকায় পরিষেবার ঘাটতি ও শীঘ্রই ওই দুই জায়গায় ভোট করানো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। হাওড়ার পানীয় জল, নিকাশি, জঞ্জাল, রাস্তার আলো, বেআইনি পার্কিং ও নির্মাণের বিষয় বৈঠকে উঠতে পারে।
এ দিনের বৈঠকে পুর আধিকারিকেরা বিধায়ককে জানান, পুরকর্মীর অভাব ও তহবিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় পরিষেবা দেওয়া যাচ্ছে না। প্রায় আট বছর পুরসভায় বোর্ড না থাকায় আধিকারিক ও কর্মী, বিশেষত ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ প্রায় বন্ধ। অনেকে অবসর নিয়েছেন। পুর ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা ৯০ থেকে কমে বর্তমানে ১২ জনে ঠেকেছে। বকেয়া অর্থ না পেয়ে ঠিকাদারেরাও কাজ করতে চাইছেন না বলে বৈঠকে মেনে নিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ারেরা। বর্ষার আগে নিকাশি নালা, হাইড্র্যান্টগুলি থেকে পলি তোলার কাজও হচ্ছে না। হাওড়ার গুরুত্বপূর্ণ নিকাশি, ডাবল ব্যারেল সংস্কার হয়নি। ফলে বর্ষায় ফের জমা জলে ভাসতে পারে হাওড়া।
রুদ্রনীল জানান, যত দিন না হাওড়ায় পুর বোর্ড গঠন হচ্ছে, তত দিন শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে ১০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও হাওড়ার পুর আধিকারিকদের নিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হবে। সেই কমিটি ওয়ার্ডের সমস্যা পুর প্রশাসনিক আধিকারিককে জানাবেন। তাঁরা সমাধানের চেষ্টা করবেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)