Advertisement
E-Paper

শ্বশুরবাড়িতে তরুণীর ঝুলন্ত দেহ, ধৃত চার

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম তিস্তা রায়হাজরা (৩০)। মঙ্গলবার রাতে ট্যাংরা থানা এলাকার গোবিন্দ খটিক রোডের শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে এন আর এস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ অগস্ট ২০১৮ ০১:১৬
তিস্তা রায়হাজরা

তিস্তা রায়হাজরা

বাড়ির লোক জানতেন শ্বশুরবাড়িতে ভাল নেই মেয়ে। কী হয়েছে, তা অবশ্য জানতেন না তাঁরা। পরিজনেদের দাবি, তাঁদের মেয়ে বলেছিলেন, খুব শ্রীঘ্রই বাড়িতে সব কথা বলবেন তিনি। কিন্তু তা জানার সুযোগ আর হল না। তার আগেই, শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল সেই বধূর ঝুলন্ত দেহ।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম তিস্তা রায়হাজরা (৩০)। মঙ্গলবার রাতে ট্যাংরা থানা এলাকার গোবিন্দ খটিক রোডের শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে এন আর এস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতার বাবা রাজকুমার রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তিস্তার স্বামী রিকি হাজরা, ভাসুর রবিন হাজরা, জা দীপিকা হাজরা ও শাশুড়ি লতা হাজরাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতে তোলা হলে বিচারক দীপিকা ছাড়া বাকিদের পুলিশ হেফজাতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। দীপিকার জেল হেফাজত হয়েছে। পুলিশ জানায়, তিস্তার শ্বশুরমশাই রাজকুমার হাজরা ঘটনার আগে থেকেই হাসপাতালে ভর্তি।

পুলিশ জানায়, ২৩ জুন বাড়ির অমতেই রিকিকে বিয়ে করেন ক্রিস্টোফার রোডের বাসিন্দা তিস্তা। কালীঘাট মন্দিরে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে বিয়ের কথা জানানো হয় তিস্তার বাড়িতে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রিকি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। তবে কিছু দিন ধরে তাঁর কোনও কাজ ছিল না। এর জেরে তিস্তার সঙ্গে বিরোধ হয় তাঁর। পুলিশ জেনেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওই দম্পতির মধ্যে গোলমাল হয়। এর পরেই বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে যান রিকি। তিস্তার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জেনেছে, এই ঘটনার কিছু পরেই বন্ধ ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায় ওই বধূকে। তাঁরাই তিস্তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল যায় পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।

তিস্তার পরিবারের সদস্যেরা পুলিশকে জানান, সোমবারও তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিস্তা। তিনি ভাল নেই, সে কথাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও ভাবেই তাঁদের বলতে চাননি, কেন ভাল নেই তিনি। তিস্তার ভাই সানি রায় বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘দিদি বেশ কিছু দিন ধরেই বলছিল যে, ও ভাল নেই। কিছু দিনের মধ্যেই সবাইকে সব জানাবে বলেছিল।’’ মৃতার পরিবারের আরও অভিযোগ, তিস্তার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁদের দাবি, তিস্তাকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, তিস্তার বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ছাড়াও ময়না-তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও আত্মহত্যার কথাই বলা হয়েছে।

Death Girl Arrest
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy