E-Paper

রাস্তায় অসুস্থ বৃদ্ধকে দেখলেন না চিকিৎসক, হাসপাতালের পথেই মৃত্যু

পুলিশ সূত্রের খবর, ওই চিকিৎসকের নাম অনিমেষ কর। ই এম বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিভাগে তিনি যুক্ত। গত প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি পাটুলি এলাকায় চেম্বার করছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:২০

— প্রতীকী চিত্র।

এক বৃদ্ধ রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শুনেও তাঁকে দেখতে না যাওয়ার অভিযোগ উঠল এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। চেম্বার ছেড়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে ওই চিকিৎসক জানিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। শুক্রবার সন্ধ্যায় পাটুলির এই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়া ৭৩ বছরের ওই বৃদ্ধকে গাঙ্গুলিবাগান এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পরেই স্থানীয় লোকজন ওই চিকিৎসকের চেম্বারে চড়াও হন। তাঁর গাড়ি দুমড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রাতেই পাটুলি থানায় ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। পুলিশ অবশ্য বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের দাবি, ওই সময়ে যা করণীয়, অর্থাৎ, দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ারই পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।

পুলিশ সূত্রের খবর, ওই চিকিৎসকের নাম অনিমেষ কর। ই এম বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিভাগে তিনি যুক্ত। গত প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি পাটুলি এলাকায় চেম্বার করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তেমনই চেম্বার চলছিল তাঁর। চিকিৎসকের দাবি, ‘‘হঠাৎ চেম্বারে এসে এক ব্যক্তি বলেন, বাইরে রাস্তায় এক জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমি দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। আমি তো আমার চেম্বারেও নিয়ে আসতে বলিনি। তা হলে না-হয় অন্যায় করেছি বলে মনে হতে পারত। স্রেফ একটি স্টেথোর সাহায্যে এক জন চিকিৎসক ওই রকম আপৎকালীন সময়ে কী-ই বা করতে পারেন? এই সব বুঝেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছিলাম।’’

চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় স্মারকলিপি দেওয়া লোকজন জানালেন, ৭৩ বছরের ওই বৃদ্ধের নাম প্রতাপ চক্রবর্তী। তিনি চিকিৎসকের চেম্বারের বাইরে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখনই তাঁকে বাঁচাতে ডাকতে যাওয়া হয় চিকিৎসককে। কিন্তু তিনি যেতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। অভিযোগ, চেম্বারের বাইরে রাস্তায় কাউকে দেখতে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেও চিকিৎসক মন্তব্য করেন। কেন মানবিকতার খাতিরেও চিকিৎসক এলেন না, তা নিয়ে এর পরে ওই এলাকায় জলঘোলা শুরু হয়। অসুস্থ বৃদ্ধকে ওই অবস্থায় রেখেই চিকিৎসককে নিয়ে আসার চেষ্টা চলতে থাকে। এর পরে এক দল লোক অসুস্থ বৃদ্ধকে নিয়ে গাঙ্গুলিবাগানের হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। পথেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর পরে পুলিশে স্মারকলিপি জমা পড়ে।

যদিও মৃত বৃদ্ধের পরিবারের তরফে থানায় কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি বলেই পুলিশের দাবি। স্মারকলিপির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের তরফে যে নির্দেশ পাঠানো হবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। চিকিৎসক যদিও শেষে বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে এই এলাকায় কোনও ক্ষোভ নেই। আমার নিজের বাবা-মায়েরও আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। এমন মৃত্যুর ক্ষেত্রে কতটা ধাক্কা লাগে, আমি জানি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সত্যিই আমার কিছু করার ছিল না। ওই রকম আপৎকালীন সময়ে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময় নষ্ট না করে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Medical Negligence Patuli Death

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy