Advertisement
E-Paper

‘চাকরি’র খোঁজে এসে ডাকাতি

পড়াশোনা করেও চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন তাঁরা। এই অবস্থায় কলকাতায় চাকরির আশ্বাস পেয়ে চলে আসেন। আর এখানে এসেই ডাকাতির সঙ্গে তাঁরা ফেঁসে যান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০১৬ ০০:৪৬

পড়াশোনা করেও চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন তাঁরা। এই অবস্থায় কলকাতায় চাকরির আশ্বাস পেয়ে চলে আসেন। আর এখানে এসেই ডাকাতির সঙ্গে তাঁরা ফেঁসে যান।

সোমবার দুপুরে কসবায় ডাকাতির ঘটনায় ধৃত ঝাড়খণ্ডের দুই যুবক কসবা থানার পুলিশের জেরার মুখে এই দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই যুবকের নাম সৌমেন চট্টোপাধ্যায় এবং রাজকুমার রাম। দুজনেই ঝাড়খণ্ডের চক্রধরপুরের বাসিন্দা। সৌমেন কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। রাম আইটিআই পাশ। সৌমেন জামশেদপুরে ডেটা এন্ট্রির কাজ করতেন। দু’জনের বয়সই ২৬ থেকে ২৮-এর মধ্যে।

সোমবার কসবার টেগোর পার্কের একটি ফ্ল্যাটে ডাকাতি করে পালানোর সময় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে যায় এক দুষ্কৃতী। অর্ধেন্দু দে নামে ওই দুষ্কৃতীকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ। জানা যায়, তার দুই সঙ্গী পলাতক। তদন্তে নেমে পুলিশ গরফা থানার নাজিরবাগানের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে সৌমেন ও রামকে ধরে।

শিক্ষিত হয়ে তাঁরা কী করে ডাকাতির ঘটনায় জড়িয়ে গেলেন, পুলিশের এই প্রশ্নের মুখে ওই দুই যুবক দাবি করেছেন, তাঁরা ডাকাতির কথা কিছুই নাকি জানতেন না। সোমবার সকালেই তাঁরা জামশেদপুর থেকে কলকাতায় পৌঁছন। অর্ধেন্দুই তাঁদের চাকরি দেওয়ার নাম করে কলকাতায় ডাকেন। দুপুরে কসবা নিয়ে গিয়ে অর্ধেন্দু তাঁদের বলে, ‘‘আমি যা করব, তাই করতে হবে।’’

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে কসবার ওই ফ্ল্যাটে প্রথমে কীটনাশক বিক্রি করার ছুতোয় ঢুতে চেষ্টা করে তিন যুবক। ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মীনা চৌধুরী ও তাঁর পুত্রবধূ প্রিয়া কীটনাশকের প্রয়োজন নেই বলে দরজা বন্ধ করে দেন। এর পর ওই তিন যুবক ফের বেল বাজিয়ে জল খেতে চায়। প্রিয়াদেবী জল আনার জন্য ভিতরে ঢুকতেই পিছন থেকে এক জন এসে বন্দুক দেখায়। তাঁর কানের দুল ও নথ ছিনিয়ে নেয়।

পুলিশের জেরার মুখে সৌমেন ও রাম জানিয়েছেন, অর্ধেন্দুর সঙ্গে গিয়ে তাঁরা ফ্ল্যাটের কলিং বেল টিপতেই এক মহিলা বেরিয়ে আসেন। কী করে সেলস্-এর কাজ করতে হয় তাই তাঁদের শেখানো হচ্ছে বলে অর্ধেন্দু তাঁদের জানায়। পুলিশকে দুই যুবক জানান, মহিলা দরজা বন্ধ করে দেওয়ার পরে দ্বিতীয় বার বেল বাজায় অর্ধেন্দু। মহিলা আবার দরজা খুলতে সে-ই জল খেতে চায় এবং বন্দুক বার করে ভিতরে ঢোকে। যুবকদের দাবি, এই দৃশ্য দেখে তাঁরাও কার্যত হকচকিয়ে যান। ওই মহিলারা চিৎকার করতে শুরু করায় তাঁরা সিঁড়ি দিয়ে নেমে পালিয়ে যান।

দুই যুবকের দাবির সপক্ষে বেশ কয়েকটি যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। এক, তাঁরা আগেই পালিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েননি। অর্ধেন্দু পরে বেগতিক দেখে একা নেমে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে যায়। দুই, যাঁরা পেশাদার ডাকাত, তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও ডাকাতির পরে পুলিশ যাতে তাদের খোঁজ না পায় তার জন্য মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। এ ক্ষেত্রে সৌমেন ও রাম তাঁদের মোবাইল ফোন অন করেই রেখেছিলেন।

তবে, একটি বিষয় নিয়ে ধন্দও রয়েছে। ঘটনার পরে প্রিয়াদেবী পুলিশকে জানান, এক জন ডাকাত যখন তাঁর দিকে বন্দুক তাক করে, তখন তিনি তার হাত চেপে ধরেছিলেন। সেই সময়ে অন্য এক জন এসে তাঁকে মারধর করে। অর্ধেন্দু বন্দুক তাক করেছিল সে বিষয়ে পুলিশও নিশ্চিত। তা হলে প্রশ্ন, কে মারধর করল তাঁকে? সৌমেন না রাম? নাকি অর্ধেন্দুই মারধর করেছে এবং ভুল করে অন্য দু’জনের নাম বলেছেন প্রিয়াদেবী? নাকি সৌমেন ও রাম পুলিশকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছেন?

পুলিশ জেনেছে, গত দু’বছর ধরে অর্ধেন্দু কলকাতায় থাকলেও আদতে সে জামশেদপুরের ছেলে। সেখানেই তার সঙ্গে সৌমেন ও রামের আলাপ। দুই যুবক পুলিশকে জানিয়েছেন, কলকাতায় এসে অর্ধেন্দু ঢাকুরিয়ায় এক বান্ধবীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। ওই মহিলার সঙ্গে অর্ধেন্দুর ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ হয়েছিল। সোমবার স্টেশন থেকে সৌমেন ও রামকে নিয়ে প্রথমে ওই মহিলার বাড়িতেই যায় সে। তার পরে গরফার নাজিরবাগানে একটি ভাড়া বাড়িতে যায়। ডাকাতির ঘটনার পরে এই বাড়িতেই গিয়ে লুকিয়েছিলেন সৌমেন ও রাম।

পুলিশের দাবি, পুরো ঘটনার ছক কষেছিল অর্ধেন্দু। এক তদন্তকারী অফিসার বলেন,‘‘অর্ধেন্দু কয়েক হাজার টাকা দিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিল, যেটি সোমবার ব্যবহার করা হয়েছিল।’’ পরে পুলিশ তা উদ্ধার করে। মঙ্গলবার লালবাজারে গোয়েন্দা প্রধান দেবাশিস বড়াল বলেন, ‘‘অর্ধেন্দু অসুস্থ থাকায় তাঁকে ঠিক মতো জেরা করা যাচ্ছে না। ধৃতরা আগেও কোনও অপরাধ করেছে কি না, সেই বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে ঝাড়খণ্ড পুলিশের সঙ্গেও কথা বলা হবে।’’

Fraud case Youth
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy