E-Paper

হতাশ গিগ কর্মীরা, বিকল্প রোজগারের আশা পরিযায়ীদের

সোমবার রাজ্য বাজেটে গিগ কর্মীদের জন্য নিখরচায় পানীয় জল ও মোবাইলে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থার মতো কিছু পদক্ষেপ করার ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

অঙ্কুর সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ০৬:৪৪
জীবিকা-যুদ্ধ: এক পাশে এগিয়ে আসছে গাড়ি, অন্য পাশেই এক সাইকেল আরোহী। পাশ কাটিয়ে অর্ডারের জিনিস পৌঁছতে চলেছেন এক গিগ কর্মী।

জীবিকা-যুদ্ধ: এক পাশে এগিয়ে আসছে গাড়ি, অন্য পাশেই এক সাইকেল আরোহী। পাশ কাটিয়ে অর্ডারের জিনিস পৌঁছতে চলেছেন এক গিগ কর্মী।

গত বছরের শেষের দিকে গোটা দেশ দেখেছে গিগ কর্মীদের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ। আয় থেকে সুরক্ষা— একাধিক দাবি নিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন তাঁরা। যাঁদের কাজ মূলত অনলাইনে কেনা খাবার বা খুচরো জিনিস ক্রেতার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। সে বার মোদী সরকারের তরফে পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি এসেছিল। পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে সেই বিজেপি সরকারেরই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটের দিকে তাই প্রত্যাশায় বুক বেঁধে তাকিয়ে ছিলেন পণ্য বাড়িতে পৌঁছনোর ওই কর্মীরা।

সোমবার রাজ্য বাজেটে গিগ কর্মীদের জন্য নিখরচায় পানীয় জল ও মোবাইলে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থার মতো কিছু পদক্ষেপ করার ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তবে, তা যথেষ্ট নয় বলেই দাবি তাঁদের একাংশের। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আলাদা করে এই সমস্ত ‘ডেলিভারি’ কর্মীদের আর্থিক অসচ্ছলতার কথা উল্লেখ করে জানান, এই ধরনের কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় আনতে একটি কল্যাণমূলক পর্ষদ বা ‘ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ তৈরি করা হবে। সেই পর্ষদই এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সঙ্গে তাঁর বার্তা, গিগ কর্মীরা এ বার থেকে বিনামূল্যে পানীয় জল পাবেন। তাঁদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিখরচায় মোবাইল চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

তবে বাজেটে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য একাধিক সুবিধার কথা ঘোষণা করায় খুশি তাঁরা। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া সমস্ত শ্রমিককে এ বার থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সেই সঙ্গে ভর্তুকিতে খাদ্যপণ্য বিতরণে তাঁদের যুক্ত করা হবে ‘এক দেশ এক রেশন কার্ড’ প্রকল্পে। সে ক্ষেত্রে দেশের যে প্রান্তেই এই শ্রমিকেরা যাবেন, সেখানে চিকিৎসার সুবিধা ও বিনামূল্যে রেশনের সুবিধা পাবেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের বিকল্প কোনও প্রশিক্ষণ দিয়ে রাজ্যেই কর্মক্ষম করে তোলার লক্ষ্যেও একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক। বণিকসভাগুলির পক্ষ থেকে এমন প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সহায়তা করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

রাস্তায় অবিরাম ঘুরে ঘুরে কাজ করতে হয় গিগ কর্মীদের। তাঁদের অভিযোগ, ঝড়, বৃষ্টি, গরম সয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে পণ্য পৌঁছে দেন তাঁরা। কিন্তু সেই অনুপাতে যে পারিশ্রমিক পান, তা নামমাত্র। বিমা-সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও কম। এই অবস্থায় রাজ্য বাজেটেও স্পষ্ট করে এই সব কর্মীর বিমা কিংবা আর্থিক সহায়তার কোনও ঘোষণা নেই। তাই উদ্বেগ, হতাশা বা ক্ষোভ দূর হওয়ার প্রশ্ন রইল না।

তাঁদের ক্ষোভ, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমার পাশাপাশি কর্মরত অবস্থায় আহত হলে অথবা মারা গেলে আর্থিক সহায়তার সুবিধা অন্তত দেওয়া হবে, এই আশা ছিল। এই আশার কারণ, যে হেতু এ বারের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হয়েছে। তার উপরে চলতি বছরেই একাধিক রাজ্যের তরফে গিগ কর্মীদের জন্য বিমা, আর্থিক সহায়তা, কাজের নিরাপত্তা-সহ একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলার বাজেটে এ সব নিয়ে কোনও ঘোষণা না করে বিষয়টি ফের ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া হল। সব কিছুই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ‘ওয়েলফেয়ার বোর্ডের’ উপরে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Gig Workers migrant labour

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy