Advertisement
E-Paper

দক্ষিণ দমদমে সংক্রমণ বাড়ছে, সচেতনতা সেই তলানিতেই

পুরসভার একটি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে নাগরিকদের সচেতনতার ‘বহর’। অন্তত ২০টি পরিবারে দেখা গিয়েছে, প্রথমে এক জন সংক্রমিত হওয়ার পরে পরিবারের প্রায় সব সদস্যই আক্রান্ত হয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ অগস্ট ২০২০ ০২:১৫
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

হাজার ছাড়িয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধুমাত্র একটি পুর এলাকায় সংক্রমণের এমন হারে চিন্তিত উত্তর ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্য দফতর। আর দক্ষিণ দমদম পুর কর্তৃপক্ষ চিন্তিত কয়েকটি এলাকাকে নিয়ে। কারণ, সেখানে সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। শুধু বাঙুর, শ্রীভূমি, দক্ষিণদাঁড়ি এবং সংলগ্ন এলাকাতেই সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় ৫০০। মূলত সচেতনতার অভাবের জন্যই এই সব এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন পুর কর্তৃপক্ষ।

পুরসভার একটি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে নাগরিকদের সচেতনতার ‘বহর’। অন্তত ২০টি পরিবারে দেখা গিয়েছে, প্রথমে এক জন সংক্রমিত হওয়ার পরে পরিবারের প্রায় সব সদস্যই আক্রান্ত হয়েছেন। পুর স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, এটা অবশ্য সব এলাকারই ছবি। তাদের পর্যবেক্ষণ, প্রথম আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি নিজে সচেতন হলে বাকিদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াত না। এই পুর এলাকায় ২০টি পরিবারে অন্তত ১০০ জন

সংক্রমিত হয়েছেন।

গত বছর ডেঙ্গির সময়েও দেখা গিয়েছিল, কিছু বসতবাড়ি এবং আবাসনে আক্রান্তের হার বস্তি এলাকার থেকে বেশি। অথচ তার আগের বছরগুলিতে চিত্রটা ছিল উল্টো। পুর স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনায় সংক্রমিতের সংখ্যা সব থেকে বেশি বাঙুরে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দেড়শো ছাড়িয়েছে।

তার পরেই রয়েছে শ্রীভূমি এলাকা। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪০ জন। তৃতীয় স্থানে আছে দক্ষিণদাঁড়ি এবং সংলগ্ন এলাকাগুলি। সেখানেও আক্রান্ত শতাধিক। ফলে মাত্র কয়েকটি এলাকা মিলিয়ে সংক্রমিতের সংখ্যা পাঁচশোর কাছাকাছি। যা পুরো পুরসভার আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক। বাঙুর-শ্রীভূমি-দক্ষিণদাঁড়ি এলাকায় বড় বাড়ি ও আবাসন রয়েছে। পুরসভা জানাচ্ছে, এখানকার আবাসনগুলিতেই সংক্রমণের হার বেশি।

পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদমের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে এক ব্যক্তি প্রথম আক্রান্ত হয়েছিলেন। উপসর্গ থাকার পরেও সচেতন না-হওয়ার জন্য দেরি করে লালারসের নমুনা পরীক্ষা করান তিনি। তাঁর রিপোর্ট পজ়িটিভ আসার কয়েক দিনের মধ্যে একে একে তাঁর পরিবারের ন’জন আক্রান্ত হন। আবার, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পরিবারের ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে, প্রথমে গৃহকর্তা আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে একে একে পরিবারের বাকিরা সংক্রমিত হন। ৯ এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের দু’টি পরিবারের ছ’জন করে সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। একাধিক পরিবারের পাঁচ জন সদস্যের সকলেই আক্রান্ত হয়েছেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে।

পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের এক চিকিৎসক বলেন, ‘‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, প্রথম আক্রান্ত সচেতন হননি বলে পরিবারের বাকিদের সংক্রমিত করেছেন তিনি। উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। হোম আইসোলেশনে থাকেননি। উল্টে এই সময়ে বাইরে ঘুরেছেন। ফলে পরিবারের বাইরেও তাঁর থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তিনি সচেতন হলে সংক্রমণের হার অনেকটাই কম হত।’’

দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য প্রবীর পাল বলেন, ‘‘আমরা সব ওয়ার্ডে সচেতনতার প্রচার চালাচ্ছি। বার বার বলা হয়েছে, কেউ যদি সংক্রমিত হন এবং বাড়িতে তাঁর যদি আলাদা থাকার ব্যবস্থা না-থাকে, তা হলে সেই ব্যবস্থা পুরসভাই করবে। করোনা-সংক্রান্ত যে কোনও প্রয়োজনে পুরসভা এলাকার নাগরিকদের পাশে রয়েছে। অনেকে সেই সাহায্য নিয়েছেন। তার পরেও নাগরিকদের একাংশের সচেতন না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক।’’

(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও।

• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy