Advertisement
E-Paper

ভেঙেছে হাত-পা-পাঁজর, ফেটে গিয়েছে হৃৎপিণ্ড-ফুসফুস-যকৃৎ! অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের হল আরজি করের লিফ্‌ট-কাণ্ডে

আরজি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, মৃত অরূপের বাবা তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই অভিযোগ টালা থানাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩৫
আরজি কর হাসপাতালের সেই লিফ্‌ট। মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (ইনসেট)।

আরজি কর হাসপাতালের সেই লিফ্‌ট। মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (ইনসেট)। ছবি: সংগৃহীত।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত, পা এবং পাঁজর ভেঙে গিয়েছে। তাঁর হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃৎও আঘাতে ফেটে (রাপচার) গিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় অরূপের বাবা অমল বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে টালা থানার পুলিশ। পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে।

শিশুপুত্রের চিকিৎসার জন্য আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে গিয়েছিলেন অরূপ। শুক্রবার ভোরে লিফ‌্ট থেকে উদ্ধার করা হয় আহত অরূপকে। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ৪১ বছরের অরূপের শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর হাত, পা, পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে। তাঁর হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃৎও ফেটে গিয়েছে।

আরজি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, মৃত অরূপের বাবা তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই অভিযোগ টালা থানাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কী জানানো হয়েছে অভিযোগে? সপ্তর্ষি বলেন, ‘‘পরিবারের বক্তব্য, লিফ‌্টে আটকে তিনি (অরূপ) আহত হন। লিফ‌্ট ঠিকঠাক চলছিল। একটি বোতাম চাপা হয়, তার পরেই লিফ্‌ট ওঠা-নামা করে। তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা।’’ হাসপাতালের সুপারের কথায়, ‘‘পরিবারের বক্তব্য অনুসারে, লিফ্‌ট একটি জায়গায় নামে। ভিতরে আটকে থাকা তিন জন বেরোতে যান। কিন্তু লিফ্‌টের বাইরে সেখানে কোলাপসিপল গেট ছিল। সেই সময় তিনি বেরোতে যান, তখন লিফ্‌ট উঠতে শুরু করে। সেই সময় লিফট এবং দেওয়ালের মাঝে আটকে পড়েন (অরূপ)।’’

হাসপাতালের সুপারের বক্তব্য, মৃত অরূপের বাবা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন তিনি। লিফ্‌টম্যানের কথা জানিয়েছেন। এর পরেই সুপার বলেন, ‘‘কোনও মৃত্যু কাঙ্ক্ষিত নয়। লিফ‌্টম্যান থাকলে হয়তো এই ঘটনা হত না। প্রশাসনিক ব্যর্থতা মানছি।’’ এর পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। সপ্তর্ষি জানান, এর পরে হাসপাতালের লিফ্‌টের ভিতরে কর্মী না-থাকলে সেখানে কাউকে উঠতে দেওয়া হবে না। গোটা হাসপাতালে ৩২টি লিফ্‌ট রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘লিফ্‌টের ভিতরে এ বার কর্মী বসে থাকবেন টুল দিয়ে। লিফ্‌টের বাইরে নয়। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তাই এই ব্যবস্থা।’’ তিনি এ-ও জানান, হাসপাতালে লিফট্‌ম্যানের পোস্ট অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক। একটি সংস্থা তাঁদের নিয়োগ করে। পিডব্লিউডি ইলেক্ট্রিক্যাল গোটা বিষয়টি দেখেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, এ বার থেকে হাসপাতালের লিফ্‌টের ভিতরে থাকবেন লিফ্‌টম্যান।

হাসপাতালের সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আরজি করের রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের সংগঠন (আরডিএ)। সেখানে সদস্যেরা সাতটি দাবি তুলেছেন। তাঁরা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের পাশাপাশি যাঁদের গাফিলতি ধরা পড়বে, তাঁদের শাস্তির দাবি করেছেন। ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ে ভিড় কমাতে আগের এমার্জেন্সি কক্ষ চালু করার ব্যবস্থা করতেও আবেদন করেছেন। লিফট্‌ম্যান নিয়োগ এবং লিফ্‌ট, সিসি ক্যামেরায় নজরদারি চালানোর কথাও বলেছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy