শুক্রবার ভোর ৪টে ১৫ মিনিট। তার পরে ভোর ৫টা ১২মিনিট। আরজি কর হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায় এই দু’বার ধরা পড়েছে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গতিবিধি। প্রথম বার ওটি (অপারেশন থিয়েটার)-র সামনে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। দ্বিতীয় বার আহত অরূপকে উদ্ধার করে ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। মাঝের প্রায় এই এক ঘণ্টা সময়ে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। খতিয়ে দেখছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য ভবন ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট চেয়েছে। সোমবার এই রিপোর্ট দেওয়া হবে। হাসপাতাল সুপার নিজে অরূপের দেহের ময়না তদন্ত করেছেন।
পরিবারের সূত্রে জানা গিয়েছে, চার বছরের শিশুপুত্রের চিকিৎসা করানোর জন্য আরজি কর হাসপাতালে গিয়েছিলেন অরূপ। শিশুটির অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার ভোর ৪টে ১৫ মিনিটে সেই ওটির সামনেই প্রথম বার দেখা গিয়েছিল অরূপকে। এর পরে তিনি শিশুটিকে নিয়ে উপরতলায় শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য লিফটে ওঠেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ, সেই সময়ে একাধিক বার লিফ্ট ওঠানামা করতে থাকে। তখন লিফ্ট পরিচালনার জন্য ভিতরে কোনও কর্মী ছিলেন না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বেসমেন্টে লিফ্ট নেমে যায়। সূত্রের খবর, লিফ্টের গেট এক সময় খুলে যায়। কোনও ভাবে সে সময় মা, শিশু লিফট থেকে বেরিয়ে যান। তবে ঠিক কোন সময়ে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও অরূপ বেরোতে পারেননি বলে অভিযোগ। একটি সূত্র বলছে, তীব্র ঝাঁকুনির পর লিফ্ট উপরে না উঠে বেসমেন্টে নেমে আসে। বেশ কিছু সময় কেটে যাওয়ার পরে লিফ্ট খুলে ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনা প্রসঙ্গে আরজি করের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, লিফ্টের ভিতর থেকে চিৎকার শুনে উদ্ধারকারীরা বেসমেন্টে যান। মৃত ব্যক্তির নাক-মুখ থেকে রক্ত বেরোচ্ছিল। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হল, তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
-
এ বার দুয়ারে চিকিৎসা! ভোটের ইস্তাহারে ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ মমতার! জল থেকে শুরু করে জেলা, কী কী নতুন প্রতিশ্রুতি দিল তৃণমূল
-
আরজি করের ওই লিফ্টে বহু দিনই গোলযোগ, দুর্ঘটনার পর দাবি ভুক্তভোগীদের অনেকের, কী বলছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
-
নজরদারির অভাব! আরজি করে গাফিলতি মেনে নিলেন বিধায়ক অতীন, লিফ্টকাণ্ডে মামলা রুজু পুলিশের, কয়েক জনকে তলব
প্রশ্ন উঠেছে, মা এবং শিশু বেরোতে পারলেও অরূপ কেন বেরোতে পারলেন না? এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। লিফ্টে বেসমেন্টে এলে তার গেট স্বাভাবিক ভাবে খুলে যায়।
যান্ত্রিক গোলযোগের জেরেই এই দুর্ঘটনা কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে টালা থানার পুলিশ। হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা দেখে আরজি করে যান কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যেরা। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে এই আরজি কর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে ধর্ষণ এবং খুন করা হয় এক চিকিৎসক-ছাত্রীকে। সেই ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি।