কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কলেজের পরিচালন সমিতির কাছে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের পরিচালন সমিতি বা গভর্নিং বডির হাজিরা খাতা (রেজিস্টার বুক) বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার আগে শেষ কবে পরিচালন সমিতির বৈঠক হয়েছিল, মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গণধর্ষণ কাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত কলেজেই অস্থায়ী কর্মী হিসাবে কাজ করতেন। কলেজের অধ্যক্ষ নয়না চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ওই অভিযুক্ত অস্থায়ী কর্মীকে পরিচালন সমিতির রেজ়লিউশনের মাধ্যমে ৪৫ দিনের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল। যদিও পরে কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেব দাবি করেন, তিনি ওই অভিযুক্তের নাম চাকরির জন্য সুপারিশ করেননি।
ঘটনার পর মঙ্গলবার প্রথম বার বৈঠকে বসে কলেজের পরিচালনা সমিতি। বৈঠকে স্থির হয় সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত দু’জন ছাত্রকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি, কলেজের অস্থায়ী শিক্ষাকর্মীর চাকরি থেকে ছেঁটে ফেলা হবে মূল অভিযুক্ত তথা কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র ‘এম’কে। সঙ্গে অন্য দুই অভিযুক্ত ছাত্র যাতে অন্য কোনও কলেজে ভর্তি না হতে পারেন, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, পরিবার চাইলে ওই ছাত্রীর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করবেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজে বহিরাগতদের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের ক্যাম্পাসের ভিতর রক্ষীর ঘরে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ওই কলেজেরই দু’জন ছাত্র এবং এক জন প্রাক্তনীকে। ওই প্রাক্তনী কলেজের অস্থায়ী কর্মী হিসাবেও নিযুক্ত। অভিযুক্তেরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের ছাত্র পরিষদ টিএমসিপির সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তা খারিজ করার পরেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় কলেজের নিরাপত্তারক্ষীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
- কসবার কলেজের এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ধৃতেরা টিএমসিপি-র সঙ্গে যুক্ত থাকায় অস্বস্তিতে শাসকদল। তাদের তরফে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের তরফে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। নির্যাতিতাকে কলেজে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করেছে পুলিশ।
-
‘বুদ্ধ, মমতা ছাত্র রাজনীতির ফসল’, সংসদ ভোট না হওয়ায় আকাল নেতার, ছাত্র নির্বাচনে কোথায় জট?
-
হাই কোর্টে জমা পড়ল কসবাকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট, ‘পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট’, ফের জানাল নির্যাতিতার পরিবার
-
কোথায় ছিলেন কসবা আইন কলেজের উপাধ্যক্ষ! হাজিরা খাতার সঙ্গে মিলছে না বয়ান?
-
কসবাকাণ্ডে রাজনৈতিক ‘দাদাগিরি’র তীব্র নিন্দা, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে পঠনপাঠন শুরুর নির্দেশ রাজ্যপালের
-
প্রাক্তনীদের কাণ্ডে লজ্জিত শিক্ষকেরা, খুলল আইন কলেজ, বিধি থাকা সত্ত্বেও পরিচয়পত্র আনতে ভুললেন অনেকেই