সরাসরি সেনা নয়, ‘সেনার পোশাক পরা’ কিছু লোকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করার অভিযোগে মামলা রুজু করেছে কলকাতা পুলিশ।
বিদ্যাসাগর সেতুর টোল প্লাজায় এক কলকাতাবাসী ওই হেনস্থার শিকার হয়েছেন, এমন অভিযোগ পাওয়ার পরে মামলা রুজু করেই তদন্তে নামে পুলিশ।
পশ্চিমবঙ্গে সেনাবাহিনীর গাড়ি সমীক্ষা নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের চাপান-উতোরে এটাই রাজ্যের তরফে প্রথম আইনি পদক্ষেপ। তবে এই পদক্ষেপকে ঘুরিয়ে নাক দেখানো বলে লালবাজারের কর্তাদের একাংশ মেনে নিচ্ছেন। ১ ডিসেম্বর রাতে হেস্টিংস থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন খিদিরপুরের ভূকৈলাস রোডের বাসিন্দা তনবীর খান। পত্রপাঠ মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই সেনা ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের একাধিক সূত্রের খবর, কৌশলে ওই যুবককে দিয়ে অভিযোগ করানো হয়েছে।
৩০ নভেম্বর মাঝরাত থেকে বিদ্যাসাগর সেতুর টোলপ্লাজা-সহ রাজ্যের ১৯টি জায়গায় যানবাহনের সমীক্ষায় নেমেছিল সেনাবাহিনী। এতে ক্ষিপ্ত হন মমতা। প্রতিবাদে তিনি সারা রাত নবান্নে থেকে যান। বিষয়টিকে তিনি জরুরি অবস্থা ও সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি সেনার হাতে সাধারণ মানুষের হেনস্থা হওয়ার অভিযোগ তোলেন। এমনকী সেনা টাকা তুলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সেনাবাহিনী অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পর্রীকর সেনাবাহিনীর ওই সমীক্ষাকে রুটিন কর্মসূচি বলে জানান। রাজ্যপাল আবার বলেন, সেনাবাহিনী সম্পর্কে সতর্ক হয়ে মন্তব্য করা উচিত।
হেস্টিংস থানায় দায়ের করা তনবীর খানের অভিযোগে বলা হয়েছে, ১ ডিসেম্বর রাত সওয়া ৮টা নাগাদ তিনি ট্যাক্সিতে ডোমজুড় থেকে কলকাতা ফিরছিলেন। সেই সময়ে বিদ্যাসাগর সেতুর টোলপ্লাজায় তিনি প্রচুর যানজট পান। সেনার পোশাক পরা কয়েক জন এসে তাঁর ট্যাক্সিকে ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালায়। ট্যাক্সি থেকে সেনার পোশাক পরা ওই লোকজন টোল আদায় করে এবং গাড়ির গায়ে স্টিকার সেঁটে দেয়। সেনার ছাপ মারা কিছু গাড়ি রাস্তায় দাঁড় করানোর ফলে যানজট ও মানুষের হয়রানি হয়। তাঁর আরও অভিযোগ, সেনার পোশাক পরা লোকজন অন্য কিছু গাড়ি থেকে টোলের নাম করে পয়সা নিচ্ছিল।
বেআইনি ভাবে বাধা সৃষ্টি করা, সরকারি কর্মী হিসেবে প্রতিপন্ন করে আইন ভাঙা, বেআইনি ভাবে সরকারি উর্দি ও চিহ্ন ব্যবহার করা, বিপজ্জনক ভাবে গাড়ি ও রাস্তা আটকানো, জাতীয় সড়ক আটকে দুষ্কর্মের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। তোলা আদায়ের অভিযোগ এফআইআর-এ উল্লেখ করা নেই।
লালবাজারের এক কর্তা জানান, ১ ডিসেম্বর রাতের ঘটনায় আরও এক জন এমন অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারও তদন্ত চলছে। তবে এক সপ্তাহ পরেও কাউকে গ্রেফতার করা তো দূর, পুলিশ জানতেই পারেনি, সেনার পোশাকে কারা ছিল! সেনা নাকি ছদ্মবেশীরা?
এই মামলার বিষয়ে সেনা মুখপাত্র, উইং কমান্ডার সিমরনপাল সিংহ বিরদির মন্তব্য, ‘‘আমরা এখনও কিছু জানি না। পুলিশের তরফে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’’
এ দিন তনবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।
(সহ প্রতিবেদক: কৌশিক ঘোষ)