E-Paper

বাড়ছে সিন্থেটিক মাদকের ব্যবহার, পুলিশের চিন্তা বর্ষবরণের উৎসব

সদ্য চলে যাওয়া বড়দিনের প্রায় দিন পনেরো আগে থেকে শহরের হোটেল, পাব, নাইটক্লাবগুলিতে নজরদারি শুরু হয়েছে।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:১৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

দেশে দায়ের হওয়া মাদক সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা গত দু’দশকে বেড়েছে প্রায় ৩০০ শতাংশ। বিশেষত, এই ধরনের অপরাধ বেশি দেখা যাচ্ছে ১৮ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে, শতাংশের হারে যার বৃদ্ধি দ্বিগুণ! ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস বুরো (এনসিআরবি)-র সর্বশেষপ্রকাশিত (২০২৩ সালের) রিপোর্ট বলছে, প্রতি সপ্তাহে দেশে ১২টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে মাদক সংক্রান্ত কারণে। আরও দেখা যাচ্ছে, কলকাতার ক্ষেত্রেও মাদক মামলা রুজু হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে।

গাঁজা বা অন্য মাদকের ব্যবহার তো আছেই, ৩০-৪০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ঘাতক ‘সিন্থেটিক মাদক’-এর ব্যবহার। বর্ষবরণের উৎসবের আগে মাদকের কারবারে লাগাম টানতে এই সমস্ত তথ্য সামনে রেখেই তৈরি হচ্ছে কলকাতা পুলিশ। যদিও পুলিশের অন্দরেই প্রশ্ন, ক্রেতা-বিক্রেতার পরিচিতি গোপন রাখা প্রযুক্তির জাল কাটিয়ে আদৌ কি মাদকের তল পাওয়া যাবে?

সূত্রের খবর, সদ্য চলে যাওয়া বড়দিনের প্রায় দিন পনেরো আগে থেকে শহরের হোটেল, পাব, নাইটক্লাবগুলিতে নজরদারি শুরু হয়েছে। পার্টি বেশি হয়, শহরের এমন এলাকায় সাদা পোশাকে নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশের বিশেষ দল। আলাদা করে কথা বলা হয়েছে কুরিয়র সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে।

গত কয়েক মাসে কলকাতায় আসা সমস্ত কুরিয়রের উপরে নজর রাখতে বলা হয়েছে। কারণ, কুরিয়র ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই পথেই বিদেশ থেকে মাদক সরাসরি ক্রেতার হাতে পৌঁছচ্ছে। গোপন ইন্টারনেট ব্যবস্থা ‘ডার্ক ওয়েবে’ বরাত দেওয়া এমন মাদক কুরিয়রের মাধ্যমে কোথায়, কখন পৌঁছচ্ছে, তা বহু সময়ে তদন্তকারীদের নজরের বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে পুলিশেরই একাংশের দাবি।

যদিও লালবাজার জানাচ্ছে, একাধিক কৌশলে নজরদারি চালিয়ে বড়দিনের আগেই প্রায় ১৫০ কেজি মাদক উদ্ধার করা গিয়েছে। কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। কিন্তু, চক্রের বাকিদের ধরার জন্য এখনই গ্রেফতারি বা মাদক উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে তদন্তকারীদের চিন্তা বাড়ছে, পুরনো ধারা মেনে এ বারও গাঁজা বা এই ধরনের সাধারণ মাদকের চেয়ে বেশি মাত্রায় ‘সিন্থেটিক মাদক’ উদ্ধারের ঘটনায়। চিন্তা বেড়েছে, কারণ, এমন মাদক অনেক বেশি ক্ষতিকর।

পুলিশ সূত্রের খবর, দেখা যাচ্ছে, বেশ কিছু প্রচলিত ঘুমের ওষুধ, উদ্বেগ কমানোর ওষুধ বা ব্যথা কমানোর ওষুধ মাদক হিসেবে শহরের বর্ষবরণের পার্টিগুলিতে ঘুরছে। এ ছাড়াও, প্রচলিত নানা মাদকের মধ্যে হেরোইন সাধারণত ঢোকে বনগাঁ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশ থেকে। অসম, মণিপুর ও নাগাল্যান্ড থেকে মূলত আসে গাঁজা। নেপাল থেকেও আসে হেরোইন, গাঁজা এবং চরস। হিমাচল প্রদেশ থেকেও কিছু ক্ষেত্রে চরসের জোগান আসে। এ ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু সিরাপ, যেগুলি মুর্শিদাবাদের দিক থেকে সড়কপথে কলকাতায় প্রবেশ করে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। কিন্তু, এই পথগুলিতে নজরদারি চালালেও মূল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রযুক্তি।

লালবাজারের মাদক দমন শাখার এক অফিসার বলেন, ‘‘অনলাইনে একাধিক বার লেনদেনের পরে সিন্থেটিক মাদক ঢুকছে। মাদক কারবারিদের বেশির ভাগই টর ব্রাউজ়ার দিয়ে ডার্ক ওয়েবে ঢুকছে। টর ব্রাউজ়ারে যে হেতু ব্যবহারকারীর আইপি অ্যাড্রেস গোপন থাকে, তাই মূল লোকের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গোলক ধাঁধায় ঘুরতে হচ্ছে।’’

আর এক অফিসারের মন্তব্য, ‘‘একই রকম কঠিন কুরিয়র ধরা। কারণ, খামের ভিতরে কী আছে, তা খুলে দেখে না কোনও কুরিয়রসংস্থাই। নিশ্চিত না হয়ে তদন্তকারীরাও খাম খুলে দেখার পথে হাঁটতে পারেন না।’’ এর সঙ্গেই রয়েছেপুতুলের পেটে, গাড়ির সিট বেল্টের সঙ্গে মুড়িয়ে, জুতোর হিলের মধ্যে, কখনও বা মেক-আপের পাউডার ফেলে দিয়ে সেই জায়গায় মাদক ভরে পাচার।

তা হলে উপায়? আপাতত মাদকের হাতবদলের সূত্র ধরেই তদন্ত চালানোর পরিকল্পনা করছে পুলিশ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kolkata Police

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy