Advertisement
E-Paper

বেলেঘাটায় বিক্ষোভের মুখে কুণাল ঘোষ, রাতের ঘটনার পর দীর্ঘ পোস্ট করে ব্যাখ্যা দিলেন তৃণমূলের নবনির্বাচিত বিধায়ক

আবাসন প্রকল্পে স্থায়ী ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিললেও এখনও বহু পরিবার নতুন আবাসন পায়নি বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হতেই সোমবার সকালে সমাজমধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কুণাল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১২:১৭
কুণাল ঘোষ।

কুণাল ঘোষ। —ফাইল চিত্র।

বেলেঘাটার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে রবিবার গভীর রাতে তৃণমূলের পার্টি অফিস চত্বরে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আচমকা সেখানে জড়ো হয়ে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। আবাসন প্রকল্পে স্থায়ী ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিললেও এখনও বহু পরিবার নতুন আবাসন পায়নি বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হতেই সোমবার সকালে সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কুণাল।

পোস্টে কুণাল জানান, এলাকায় একটি অত্যন্ত জীর্ণ আবাসন ছিল যেখানে কমন শৌচালয়ের ব্যবস্থা ছিল এবং ঝড়-বৃষ্টিতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হত। সমস্যার সমাধানে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল বহু আগেই। তাঁর দাবি, ২০১০ সাল থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং পরে ২০২২ সালে স্থানীয় কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী সক্রিয় ভাবে বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পর কেএমডিএ প্রকল্পটি গ্রহণ করে। কুণালের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল পুরনো বিধ্বস্ত আবাসন ভেঙে নতুন বহুতল তৈরি করা এবং পুরনো ঘরের বদলে বিনামূল্যে ‘টু রুম অ্যাটাচ বাথ’ ফ্ল্যাট দেওয়া। ধাপে ধাপে ব্লক ভেঙে নতুন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই কিছু নতুন টাওয়ার তৈরি হয়েছে এবং বহু বাসিন্দা ইতিমধ্যেই সেখানে বসবাস শুরু করেছেন বলেও দাবি তাঁর। তবে একই সঙ্গে কুণাল স্বীকার করেছেন যে, প্রকল্পের কাজের গতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এখনও যাঁরা ফ্ল্যাট পাননি, তাঁদের বিকল্প জায়গায় থাকতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কুণালের দাবি, বিষয়টি কেএমডিএ-কে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চাপও দেওয়া হয়েছে।

রবিবার রাতের ঘটনার প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, কয়েক জন মহিলা ফ্ল্যাট পেতে দেরি হওয়ার অভিযোগ জানালেও বিক্ষোভের মাঝে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান এবং বিজেপি সমর্থকদের উপস্থিতি দেখে ঘটনার রাজনৈতিক মাত্রাও তিনি অনুভব করেছেন। তাঁর অভিযোগ, একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। যদিও বিজেপিরই আর একটি অংশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিল বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

কুণাল আরও লেখেন, তাঁকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব এলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং হেঁটেই এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। সোমবার সকালেও তিনি পার্টি অফিসে বসেছেন এবং স্বাভাবিক ভাবেই নিজের কাজ করছেন বলেও জানান।

অন্য দিকে, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এলাকার পুরনো বসতি ভেঙে নতুন পাকা বাড়ি তৈরির আশ্বাস দিয়েছিলেন কুণাল, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং স্থানীয় কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী। তাঁদের বলা হয়েছিল, জমি ছেড়ে দিলে একই জায়গায় উন্নত আবাসন তৈরি করে দেওয়া হবে। কিন্তু সম্প্রতি যে সব ঘর দেওয়া হয়েছে, সেগুলি ছোট আকারের এবং টিনের চালযুক্ত বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। তাঁদের বক্তব্য, “এগুলো পায়রার খোপের মতো। পরিবার নিয়ে থাকা সম্ভব নয়।”

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন। যদিও শেষপর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পাল্টা ব্যাখ্যা দেন তৃণমূল নেতৃত্বও। দলের দাবি, ওই এলাকায় বহু পুরনো একটি ব্যারাক ছিল, যার পুনর্গঠনের কাজ করছে পূর্ত দফতর ও কেএমডিএ। ইতিমধ্যেই বহু পরিবার নতুন ফ্ল্যাট পেয়েছে এবং বাকি অংশের কাজও চলছে। যাঁরা এখনও আবাসন পাননি, তাঁদের ক্ষোভ থেকেই এই বিক্ষোভ বলে দাবি তৃণমূলের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। আবাসন প্রকল্পের ধীর গতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ যেমন সামনে এসেছে, তেমনই শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক সংঘাতও নতুন মাত্রা পেয়েছে বেলেঘাটায়।

Kunal Ghosh TMC MLA
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy