ধার্য করের অতিরিক্ত বিল আসায় বছর চারেক আগে মিউনিসিপ্যাল অ্যাসেসমেন্ট ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রঞ্জনা গুহ। সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় বাড়তি করের বোঝা এখনও বইতে হচ্ছে হাইকোর্টের আইনজীবী রঞ্জনাদেবীকে।
একই অবস্থা বাঁশদ্রোণীর বাসিন্দা বীথিকা দত্তের। বছর পাঁচেক আগে পুরকরের হিসেব দেখে চোখ কপালে উঠেছিল তাঁর। পুরসভার পাঠানো অ্যাসেসমেন্টের ‘ভুল’ বিল দেখে বাধ্য হয়েই ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন বীথিকাদেবী। কিন্তু পাঁচ বছর পেরিয়েও নিষ্পত্তি হয়নি মামলার।
পার্ক সার্কাসের ব্রাইট স্ট্রিটের বাসিন্দা পেশায় আইনজীবী কাজী ফজলুর রহমান মামলা করেছিলেন ২০০২ সালে। মীমাংসা হয়নি তারও। রঞ্জনা গুহ, বীথিকা দত্ত বা ফজলুর রহমান উদাহরণ মাত্র। এঁদের মতো বাইশ হাজার করদাতা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়ে এখনও বিচার পাননি।
কিন্তু পুর–ট্রাইব্যুনালে মামলা করেও নাগরিকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে কেন?
পুরসভা সূত্রে খবর, এর পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, মামলা শুরুর পর ট্রাইব্যুনালের তরফে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘রেকর্ড-বুক’ পুরসভার কাছে চেয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু ওই রেকর্ড বুক আসতে দু’বছরের বেশি সময় লাগছে। এর জেরে মামলার নিষ্পত্তি হতে দেরি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, শুনানির পরবর্তী তারিখ পেতে সময় লাগছে দেড় থেকে দু’বছর। তৃতীয়ত, বছর চারেক আগে ট্রাইব্যুনালে ২৭ জন কর্মী ছিলেন। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬। কর্মীর অভাবে শুনানি শেষ করে রায় দিতে সময় লাগছে। পাশাপাশি, বর্তমানে যে ক’জন কর্মী রয়েছেন তাঁদের প্রায়ই অন্যান্য সরকারি দফতরের কাজে পাঠানোয় ট্রাইব্যুনালের কাজ ব্যাহত হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে টানা ১৬ দিন ট্রাইব্যুনালের তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মীকে রেশন কার্ড বিলির জন্য খাদ্য দফতরে পাঠানো হয়েছিল। কর্মীদের অন্যত্র সরানো বন্ধ করতে সেই সময়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হারানচন্দ্র ময়রা পুর কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি বদলায়নি। জুলাই মাসে আট দিন তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মীকে ফের খাদ্য দফতরে রেশন কার্ড বিলির কাজে সরানোয় সমস্যার সৃষ্টি হয়। ট্রাইব্যুনালের আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, একেই কর্মী বাড়ন্ত, তার উপর যে ক’জন রয়েছেন তাঁদের বারবার অন্যত্র সরানোয় রায়ের কপি তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার পিছনে এটি অন্যতম কারণ।
কলকাতা পুরসভার যুগ্ম কমিশনার (কর রাজস্ব) শাহজাদ সিবলি বলেন, ‘‘মামলাকারীর রেকর্ড-বুক পুরসভা থেকে ট্রাইব্যুনালে যেতে দেরি হচ্ছে, এই অভিযোগ আগের থেকে এখন অনেক কমেছে। পুরসভা থেকে রেকর্ড বুক যাতে দ্রুত ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’’ ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল ট্রাইব্যুনাল্স বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্তকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষ সুরাহার জন্য ট্রাইবুনালে এসেও হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। দিনের পর দিন মামলা আটকে রয়েছে। বিষয়টির প্রতি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’’ মামলার নিষ্পত্তি হতে দেরি প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হারানচন্দ্র ময়রাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।