Advertisement
E-Paper

জলাভূমির জমিতেই নতুন ধাপা চান মেয়র

মহানগরের বিপুল বর্জ্য ফেলার জায়গা কমছে। তাই পূর্ব কলকাতার জলাভূমির ভিতরে থাকা জমিতেই নতুন ভাগাড় করতে দেওয়া হোক। শুক্রবার পরিবেশ দফতরের কর্মশালায় এমনই সওয়াল করলেন রাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০১৭ ০১:৩০

মহানগরের বিপুল বর্জ্য ফেলার জায়গা কমছে। তাই পূর্ব কলকাতার জলাভূমির ভিতরে থাকা জমিতেই নতুন ভাগাড় করতে দেওয়া হোক। শুক্রবার পরিবেশ দফতরের কর্মশালায় এমনই সওয়াল করলেন রাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। যদিও ‘রামসর’ তালিকাভুক্ত জলাভূমিতে সেই অনুমতি মিলবে কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।

রামসর কমিটির এশিয়া-ওশিয়ানিয়া অঞ্চলের কর্তা লিউ ইয়ং জানান, পূর্ব কলকাতার জলাভূমির চরিত্র বদল নিয়ে রাজ্য রিপোর্ট পেশ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ইয়ং বলেন, ‘‘রিপোর্ট সন্তোষজনকও হতে হবে।’’ রিপোর্টে প্রশাসন, পরিবেশকর্মী ও জলাভূমি এলাকার বাসিন্দাদের মতামতও থাকা জরুরি বলে তিনি জানান।

কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, জলা ও জমি, দুই-ই রাজ্যের এক্তিয়ারে। কিন্তু ১৯৭১-এ ভারত রামসর সম্মেলনে যোগ দেওয়ায় তাদের মতও গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের সওয়ালের প্রেক্ষিতে মন্ত্রক কী ভাবছে তা এ দিন স্পষ্ট করেনি
ওই সূত্র।

পুরসভা সূত্রের খবর, পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে কিছু উন্নয়ন হচ্ছে। শহরের জঞ্জাল ফেলার জন্যও একমাত্র সেখানেই জমি মিলতে পারে। কিন্তু রামসর তালিকাভুক্ত (জলাভূমি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক তালিকা) হওয়ায় সেখানে অনুমতি পাওয়া শক্ত। বিধিনিষেধের গেরো রয়েছে। এর আগে বাইপাসের ধারে ‘জয় হিন্দ’ জল প্রকল্প করতে সমস্যা হয়। সুপ্রিম কোর্ট থেকে অনুমতি নিতে হয়। এ দিন শোভনবাবু বলেন, ‘‘সব কাজের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া সম্ভব নয়।’’ পুরসভার এক কর্তার মতে, ভাগাড় তৈরির জন্য ওই এলাকার জমি দরকার। না হলে আগামী দিনে শহরে বড় সমস্যা হবে।

তবে জলাভূমি থেকে জমি বার করা সহজ হবে না বলেই মত পরিবেশবিদদের। আদালতের বিধিনিষেধ পেরোতে হবে সরকারি কর্তাদের। পূর্ব কলকাতার জলাভূমি এলাকার নতুন মানচিত্র ও তথ্যও রাজ্যের হাতে নেই বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। এ দিনের অনুষ্ঠানে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, ‘‘জলাভূমির নতুন ভাবে মানচিত্র করাতে হবে। এলাকায় আদমসুমারিও করতে হবে।’’

পূর্ব কলকাতার জলাভূমির চরিত্র বদলানোয় সরকারের মনোভাব নিয়ে অনেক পরিবেশকর্মীই অভিযোগ তুলেছেন। বলছেন, বর্জ্য ও উন্নয়নের কথা বলে জলাভূমির চরিত্র বদলানো হবে। পরে এলাকায় নির্বিচারে নির্মাণ করা যাবে, দখলদারদের আইনি বৈধতা দেওয়া হবে, পরিবেশগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়গুলিকে নষ্ট করা হবে। ফলে পরিবেশের ক্ষতি হবে। এ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানান তাঁরা। যদিও পরিবেশ দফতরের কর্তাদের দাবি, পূর্ব কলকাতার জলাশয় ও পরিবেশের কোনও ক্ষতি করা হবে না।

Mayor Dumping Ground Wetland
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy