থানার ভিতরের এবং বাইরের অংশকে নজরদারির আওতায় আনতে উদ্যোগী হয়েছে লালবাজার। এর জন্য একাধিক সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত কলকাতা পুলিশের আটটি থানায় মোট ৯৬টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে বলে সূত্রের খবর। মূলত মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনও কাজ হচ্ছে কিনা, তা দেখার জন্যই ক্যামেরায় এই নজরদারির ব্যবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, আপাতত ভবানীপুর, কালীঘাট, আলিপুর, চেতলা, পশ্চিম বন্দর, আনন্দপুর, পূর্ব যাদবপুর এবং গার্ডেনরিচ থানায় এই নতুন ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি থানায় ১২টি করে ক্যামেরা বসবে। থানার ভিতরে আটটি এবং বাইরে চারটি করে ক্যামেরা লাগানো হবে। সূত্রের খবর, নতুন ক্যামেরায় অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি নাইট ভিশন এবং বেশি স্টোরেজের সুবিধা থাকছে। আটটি থানার এই ৯৬টি ক্যামেরার জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যামেরা বসানোর গোটা প্রক্রিয়ারজন্য ইতিমধ্যেই দরপত্র ডাকা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়ে যাবে। লালবাজার যদিও জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই শহরের প্রতিটি থানার ভিতরে এবং বাইরে একাধিক সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তবে, নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করতেই এই আটটি থানায় ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে থানার ভিতরে কর্তব্যরত কর্মীদের দুর্ব্যবহার কিংবা জেরা করার নামে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে এসে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই নির্যাতন আটকাতে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্ট দেশের সমস্ত থানায় সিসি ক্যামেরা লাগাতে বলে। পাশাপাশি, ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দফতরেও সিসি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশি হেফাজতে বন্দির মৃত্যু বা তদন্তের নামে তাঁদের মারধর করা আটকাতেই এমন পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়েছিল।
গত বছর ক্যামেরা বসানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের তরফে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো ইতিমধ্যেই শহরের প্রতিটি থানার ভিতরে এবং বাইরে একাধিক সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেই সংখ্যাই এ বার বাড়ানো হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)