ভেজাল খাবার রোধে পুরসভার অভিযান কি বন্ধ হয়ে যাবে?
তেমনই খবর পুরসভার অন্দরে। গত বছর পুজোর পর থেকে এ বছরের বিভিন্ন সময়ে ভেজাল রোধে একাধিক অভিযান চলেছে। কোথাও ঠান্ডা পানীয়ে বাণিজ্যিক বরফ মেশানো রুখতে, কোথাও বা বিরিয়ানি, চাউমিনে ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানো বন্ধ করতে হানা দিয়েছিলেন পুর প্রতিনিধিরা। বাদ যায়নি নামী-দামি রেস্তোরাঁ এবং তিন-চারতারা হোটেলও। হঠাৎ কী এমন ঘটল, যে ভেজাল অভিযান বন্ধ হওয়ার উপক্রম?
মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ বলেন, ‘‘পরিকাঠামো এবং টাকার অভাবে নিয়মিত অভিযান চালানো যাচ্ছে না। নেই লোকবলও। ফুড সেফটি দফতরের কাজ করাতে হচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের লোক নিয়ে। এটা বেশি দিন চলতে পারে না।’’ পুরসভা সূত্রের খবর, কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের জন্য প্রয়োজন ৩২ জন ফুড ইনস্পেক্টরের। রয়েছেন মাত্র ১২ জন। ভেজাল-অভিযান চালাতে যত কর্মী দরকার, তা-ও নেই। সর্বোপরি, নিয়মিত অভিযান চালানোর টাকাও নেই। তাই ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে ভেজাল কারবারিরা।
অর্থের অভাব কেন? পুরসভা তো ফুড লাইসেন্স ফি আদায় করে। সেই টাকা কোথায় যায়?
পুরসভার এক আমলা জানান, আগে ফুড সেফটি আইন ছিল। তখন প্রায় ৮৮ হাজার খাবারের দোকান ফুড লাইসেন্স নিত পুরসভা থেকে। ২০১১ সালের পরে তা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্টান্ডার্ডস আইনে পরিণত হয়। নতুন আইন হওয়ার পরে লাইসেন্স নেওয়ার জন্য কয়েক বছর ছাড় দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও বছরে প্রায় ন’কোটি টাকা লাইসেন্স ফি বাবদ আদায় করে পুরসভা। ওই আমলার কথায়, লাইসেন্সের টাকা পুরসভা আদায় করলেও তা খরচ করতে পারছে না পুর প্রশাসন। কেন?
পুরসভা সূত্রের খবর, পুরসভার কাজে যুক্ত থাকলেও ফুড সেফটি অফিসারদের মাথায় রয়েছে রাজ্য ফুড সেফটি কমিশন। যদিও ওই ফুড অফিসার ও কর্মীদের বেতন দেয় পুরসভাই। প্রতি বছর লাইসেন্স বাবদ প্রায় ৯ কোটি টাকা আদায় হলেও তা খরচ করতে হলে রাজ্য ফুড সেফটি কমিশনারের অনুমতি নিতে হবে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে ওই টাকা খরচের অনুমতি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয় ফুড কমিশনে। গত ৭ জুলাই রাজ্যের ফুড সেফটি কমিশনার কলকাতার পুর কমিশনারকে চিঠি দিয়ে জানান, রাজ্যের অর্থ দফতর ওই টাকা খরচের অধিকার পুরসভাকে দিতে রাজি নয়। অথচ, কেন্দ্রীয় ফুড সেফটি কমিশনার ওই টাকা খরচের পুর প্রস্তাবে সম্মত। তাই রাজ্যের টালবাহানায় শিকেয় উঠেছে ভেজাল-বিরোধী অভিযান।
অতীনবাবু জানান, এখন বছরে দু’কোটি টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। যা বহন করছে পুর প্রশাসন। লাইসেন্স বাবদ আয়ের টাকা ওই খাতে ব্যয় করা হলে ভেজাল রোধে আরও সক্রিয় হওয়া যেত। তিনি জানান, রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানাতে সময় চাওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কিছুই হয়নি। অতীনবাবুর কথায়, ‘‘বক্তৃতা আর আইন দেখিয়ে তো কোনও কাজ হয় না। আসল হল অভিযান। টাকা এবং পরিকাঠামোর অভাবে সেটাই বন্ধ হতে বসেছে।’’