E-Paper

রাজ্যে পর্যটনের প্রসারে দু’টি নয়া প্রকল্প, বিশেষ গুরুত্ব তীর্থযাত্রায়

দার্জিলিং, ডুয়ার্স, সুন্দরবন এবং পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটনেও বিশেষ জোর এবং নানাবিধ পরিকল্পনার কথা এ দিন বাজেটে ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী।

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ০৬:৪৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যে ধর্মীয় পর্যটনের উপরে এ বার ‘বিশেষ’ জোর দিতে চাইছে বিজেপি সরকার। সোমবার বিধানসভায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা বাজেটে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ এবং ‘চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট’ নামে দু’টি পর্যটন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মায়াপুরের উপরেও। আগামী তিন বছরে এই প্রকল্পগুলির জন্য এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথাও বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটনের ক্ষেত্রে অতীতে এই ধরনের পরিকল্পনার কথা শোনা যায়নি।

এ ছাড়াও, দুর্গাপুজোর ‘ব্র্যান্ডিং’ করে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে। দার্জিলিং, ডুয়ার্স, সুন্দরবন এবং পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটনেও বিশেষ জোর এবং নানাবিধ পরিকল্পনার কথা এ দিন বাজেটে ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। জোর দেওয়া হয়েছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত পর্যটনেও। এ দিন বাজেটে গঙ্গাসাগর মেলা, বারুণী মেলা, রাস উৎসবের মতো বাংলার নিজস্ব ধর্মীয় উৎসবগুলিকে ‘জাতীয় উৎসব’ হিসেবে তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যে হেরিটেজ কমিশন পুনর্গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রামে ১৬০ একর জমিতে ‘টাইগার সাফারি’ তৈরির কথা জানানো হয়েছে। পূর্বতন সরকার চা-পর্যটনের ক্ষেত্রে চা বাগানের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জমি নেওয়ায় ছাড় দিয়েছিল। তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাজ্যের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে দার্জিলিং, সুন্দরবন অগ্রণী। দার্জিলিঙে হেরিটেজ ট্যুরিজ়ম হাব গঠন এবং অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজ়ম বিস্তারের কথা বাজেটে জানানো হয়েছে। সুন্দরবনের পর্যটনের ক্ষেত্রে ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরির কথা এ দিন বলা হয়েছে। পুরুলিয়ার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রকে সুসংহত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

বাজেটের পরে সাংবাদিক বৈঠকে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘বাজেটে যা উল্লিখিত হয়েছে, তাতে আশা করি, পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে সক্ষম হব।’’ আশাবাদী পর্যটন ব্যবসায়ী মহলও। ‘হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক’-এর সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যালের মতে, ‘‘আধ্যাত্মিক এবং ঐতিহ্যবাহী পর্যটনের উপরে জোর দেওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এ ছাড়াও, দুর্গাপুজোর ব্র্যান্ডিং, উত্তরবঙ্গ এবং পুরুলিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা জরুরি ছিল। একই ভাবে হোম স্টে-সহ পুরনো নীতিগুলিকেও পর্যালোচনা করার কথা সরকার বলেছে। এটা নিয়ে আমাদের অনেক দিনের দাবি ছিল। সব মিলিয়ে পর্যটনে সুসংহত বাজেট হয়েছে।’’

রাজ্যের হোটেল-মালিক সংগঠনের সহ-সভাপতি এবং ‘বেঙ্গল ট্যুরিজ়ম ফেস্ট’-এর চেয়ারম্যান সমর ঘোষের বক্তব্য, ‘‘নতুন সরকারের সদিচ্ছা আছে, এটুকু বুঝতে পারছি। তবে, পর্যটন পরিকাঠামোর পুরোপুরি উন্নয়নে একটু সময় লাগবে।’’ সুন্দরবনের হোটেল-মালিক সংগঠনের সভাপতি প্রবীর সিংহরায়ের মতে, ‘‘পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তো ভালই। তবে, সুন্দরবনের পর্যটন বর্তমানে কিছু জটিলতার মধ্যে আছে। তার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

tourism

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy