কথা ছিল বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে তাঁর বিমান নামবে কলকাতা বিমানবন্দরে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের ৪২ মিনিট আগেই কলকাতার মাটি ছুঁল বিমান। তাই সেই অনুযায়ী নির্ধারিত প্রতিটি অনুষ্ঠানই কিছুটা সময় এগিয়ে আসে। কিন্তু পুলিশ অবশ্য এ জন্য প্রস্তুতই ছিল। এক দিকে ইডেনের প্রায় ৬০ হাজার দর্শক, অন্য দিকে ২৬টি গাড়ির কনভয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজভবন আগমন। শনিবার সন্ধ্যায় গোটা পরিস্থিতি সামলে দিয়ে কঠিন পরীক্ষায় উতরে গেলেন কলকাতা পুলিশের কর্তারা। ফলে গোটা শহর জুড়ে কোথাও কোনও যানজট বা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি।
এ দিন ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই ধর্মতলা চত্বর ইডেনমুখী দর্শকদের দখলে চলে যায়। সেই খেলা যখন ভাঙে, ঘড়িতে তখন সাড়ে সাতটা বেজে গিয়েছে। প্রথম দিকে স্টেডিয়াম ফেরত দর্শকদের বেরোতে দিলেও মোদীর কনভয় রাজভবনে ঢোকার মিনিট দশেক আগে রেড রোড, আকাশবাণী ভবন ও সংলগ্ন রাস্তা আটকে দেয় পুলিশ। পৌনে আটটা নাগাদ কনভয় রাজভবনে ঢুকে যাওয়ার সামান্য পরেই সেই সংলগ্ন রাস্তা বাদ দিয়ে অন্য রাস্তাগুলি ফের দর্শকদের জন্য খুলে দেয় পুলিশ। অনেকের মতে, দুর্গাপুজোর ভিড় সামলানোর মতোই প্রায় নিখুঁত ছিল পুলিশের পরিকল্পনা।
এ দিন বিকেলে দমদম বিমানবন্দরে অবতরণের পরে যে সব রাস্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় গিয়েছে, সর্বত্রই ছিল একই রকম মসৃণ পুলিশি বন্দোবস্ত। পুলিশ ও পথচলতি মানুষের কথায়, যে সময়, যে রাস্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ কনভয় গিয়েছে, সেই রাস্তাই সাধারণ মানুষের জন্য কিছু সময় বন্ধ রাখা হয়েছিল। কার্যত পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ ছিল মোদীর যাত্রাপথ। রাস্তায় যান চলাচল ও মানুষ আটকাতে ‘গার্ডরেল’ ব্যবহার করা হয়েছিল। বহু মানুষ মোদীকে দেখতে ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থেকেছেন। কিন্তু গোটা শহরে কোথাও কোন বিশৃঙ্খলা হয়নি। মিছিল-সভা-ভিআইপি কনভয়ে রাস্তায় আটকে পড়লে দীর্ঘ সময় যে দমবন্ধ অবস্থার মধ্যে পড়তে অভ্যস্ত মানুষ, এ দিন তা বিশেষ দেখা যায়নি।
এ দিন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী, অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র, স্বরাষ্ট্র সচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি জি এম পি রেড্ডি, বিজেপির পর্যবেক্ষক সিদ্ধার্থনাথ সিংহ, বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ, রিতেশ তিওয়ারি, বিজেপি বিধায়ক শমীক ভট্টাচার্য। রেসকোর্স হেলিপ্যাডে রাজ্যপালের পাশাপাশি ছিলেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় প্রমুখ।