সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে উপচে পড়ছে জ্বরের রোগী। ভর্তি হতে গিয়ে হন্যে হচ্ছেন বহু মানুষ। কোনও আইসিইউ প্রায় খালি নেই।
তারই জেরে জীবন চলে গেল আট বছরের মনীষার।
মনোহরপুকুর সেকেন্ড লেনের বাসিন্দা, পেশায় রঙের মিস্ত্রি সমর ধাড়ার মেয়ে মনীষা ধাড়া। বেলতলা গার্লস হাইস্কুলের ক্লাস টু-র ছাত্রী। দু’দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। রক্ত পরীক্ষায় এনএস-১ পজিটিভ মিলেছিল। প্লেটলেট কমে গিয়েছিল। দরকার ছিল আইসিইউ। কিন্তু বাড়ির লোকের অভিযোগ, শহরের সাতটি হাসপাতালে ঘুরেও জায়গা মেলেনি কোনও আইসিইউ-তে। তার মধ্যে দক্ষিণ কলকাতার একটি সরকারি শিশু হাসপাতালও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে এসএসকেএম হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় ভর্তি করা হয়। সেখানেই বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এসএসকেএম সূত্রের দাবি, মৃত্যুর কিছু আগে তাকে আইসিসিইউ-তে ঢোকানো হয়েছিল। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। মনীষার ডেথ সার্টিফিকেটে লেখা হয়েছে—‘সেপটিক শক উইথ সেপ্টিসেমিয়া।’
আরও পড়ুন: দুই সিপিএম নেতাই চক্রী, বললেন ঋতব্রত
ছোট্ট মেয়ের মৃত্যুতে সকাল থেকেই থমথমে ছিল গোটা পাড়া। ক্ষোভে ফেটে পড়েন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাঁদের অভিযোগ, সারা বছর মশা নিধনের কোনও কাজই করেনি পুরসভা। এলাকার বহু মানুষ জ্বরে আক্রান্ত। প্রত্যেকে আতঙ্কিত। মনীষার মৃতদেহ নিয়ে গোটা এলাকা এ দিন ঘোরা হয়। তবে পুরসভার পাল্টা দাবি, এ রকম কোনও ক্ষোভ এলাকায় নেই। ওই এলাকার কাউন্সিলর, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার বলেন, ‘‘মঙ্গলবার সকালে পুর ক্লিনিকে মেয়েটির রক্ত পরীক্ষা করা হয়। প্লেটলেট ছিল ২ লক্ষ ৬০ হাজার। শারীরিক অবস্থাও খুব খারাপ ছিল না। তার পরেও এই মৃত্যু দুঃখজনক।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘এলাকায় ক্ষোভ নেই। আমি শ্মশানেও ছিলাম। কোনও ক্ষোভ দেখিনি।’’
মেয়েটির বাড়ির তরফে অবশ্য দাবি, মঙ্গলবার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে রক্ত পরীক্ষা করে প্লেটলেট পাওয়া গিয়েছিল ৬৫ হাজার। তার পরে তা কমে ২৫ হাজার হয়ে যায়। এক আত্মীয় বলেন, ‘‘মঙ্গলবার রাত আটটা থেকে রাত আড়াইটে পর্যন্ত সাত-আটটি হাসপাতালে ছুটেছি। মেয়ের অবস্থা সঙ্কটজনক এবং আইসিইউ খালি নেই বলে কেউ ভর্তি নেয়নি।’’