সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল হাওড়ার দাশনগরে। ওই বৃদ্ধা এক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেত্রী ছিলেন। তাঁর দিদির অভিযোগ, সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে তাঁদের ছোট ভাইয়ের পরিবারের পাঁচ জন মিলে বোনকে পিটিয়ে খুন করেছেন। তাঁর আরও দাবি, অসুস্থতার কারণে হৃদ্রোগে বোনের মৃত্যু হয়েছে বলে ঘটনার মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছে অভিযুক্ত পরিবার। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পুলিশে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দাশনগরের জেলেপাড়ার একটি তেতলা বাড়ির উপরের তলায় একাই থাকতেন বন্দনা পাখিরা (৬৫) নামে অবিবাহিতা ওই বৃদ্ধা। ২০০৩ সালে হাওড়া পুরসভার নির্বাচনে ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মহিলা তৃণমূলের প্রাক্তন কার্যকরী সভাপতি বন্দনাদেবী। ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের তফসিলি জাতি ও জনজাতি শাখার প্রাক্তন সভাপতিও ছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগে নটবর পাল রোডে বিমলাদেবী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্পাদক ছিলেন বন্দনাদেবী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার দুপুরে জেলেপাড়ার তেতলার বাড়িতে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয় বন্দনাদেবীর। তাঁর ভাই সুব্রত পাখিরার ঘরের সামনে বৃদ্ধার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়েরা। পরিবারের তরফে দাবি করা হয়, অসুস্থতার কারণে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার। কিন্তু তাঁর দিদি অর্চনাদেবীর অভিযোগ, বোনকে ভারী কোনও জিনিস দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে। সম্পত্তিগত বিবাদের জেরে এই খুন করেছেন তাঁর ছোট ভাইয়ের পরিবারের পাঁচ সদস্য। তাঁদের প্রত্যেকের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
যখন বন্দনাদেবীর দেহ উদ্ধার করা হয়, তখন তাঁর মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। তাঁর ডান কানের নীচে ক্ষত মেলে। গলায় দাগ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ, তাঁরাই দেহটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা সেখানে বৃদ্ধাকে মৃত ঘোষণ করেন। এর পরেই দেহটি ময়না-তদন্তে পাঠায় পুলিশ। প্রথমে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছিল। রবিবার মৃতার দিদির অভিযোগ পাওয়ার পরে খুনের মামলা দায়ের করে ফের তদন্ত শুরু হয়েছে।
অর্চনাদেবীর অভিযোগ, গত ১৪ এপ্রিল বন্দনাদেবীর সঙ্গে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া হয়। তখন তাঁকে মারধরও করা হয়। এর পরদিন দাশনগর থানায় মারধরের অভিযোগ দায়ের করে এসেছিলেন বন্দনাদেবী। কিন্তু পুলিশ তার পরেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। অর্চনাদেবী বলেন, ‘‘সে দিন পুলিশ ব্যবস্থা নিলে আমার বোনকে এ ভাবে চলে যেতে হতে না।’’ স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, সম্পত্তি নিয়ে বন্দনাদেবীর সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। সেই বিবাদ মাঝেমধ্যেই চরমে উঠত। কিন্তু এ জন্য তাঁকে খুন করা হবে, সে কথা ভাবতেও পারছেন না পড়শিরা।