বচসা চলাকালীন স্ত্রীকে চপার দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে রবীন্দ্র সরোবর থানার পঞ্চাননতলা রোডে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম প্রশান্ত পাণ্ডে। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চাননতলা রোডে বছর তিরিশের স্ত্রীকে নিয়ে থাকত অভিযুক্ত প্রশান্ত। অভিযোগ, প্রতি রাতে মত্ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে স্ত্রী পিঙ্কির সঙ্গে ঝগড়া করত সে। সাংসারিক অশান্তির কারণে মাঝেমধ্যেই সে স্ত্রীকে মারধরও করত। শনিবার রাত ১০টা নাগাদ পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বচসা শুরু হয়। সেই বচসা চলাকালীনই একটি স্টিলের চপার দিয়ে প্রশান্ত স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটিতে ফেলে চপার দিয়ে পিঙ্কির সারা দেহ কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে প্রশান্ত। হাত, ঘাড়, পেট-সহ পিঙ্কির শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত লাগে। মাটিতে পড়ে যান তিনি। তাঁর চিৎকারে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তাঁরাই ফোন করে রবীন্দ্র সরোবর থানায় জানান। এর পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করার পাশাপাশি, গুরুতর জখম অবস্থায় পিঙ্কিকে প্রথমে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে রাতে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আপাতত পিঙ্কিকে হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রাতেই পিঙ্কির বাড়ির সদস্যরা রবীন্দ্র সরোবর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রাত ১টা নাগাদ প্রশান্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই খুনের চেষ্টায় ব্যবহৃত চপারটি উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার করা হয়েছে রক্তমাখা পোশাক।
ধৃতকে রবিবার আলিপুর আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। এ দিন আদালতে সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘স্ত্রীকে কার্যত হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল প্রশান্ত। স্ত্রীর শরীরের ৯০ শতাংশ জায়গায় ধারালো চপার দিয়ে কুপিয়েছে সে। গলার নলি কাটারও চেষ্টা করা হয়েছিল। পিঙ্কি চিৎকারে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসায় প্রশান্ত পালানোর চেষ্টা করে। পিঙ্কির শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। কী কারণে এই নৃশংস আক্রমণ, তা জানা এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জেরার প্রয়োজন রয়েছে।’’ সওয়াল-জবাব শেষে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রশান্তের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)