গোটা একটি দিন পেরিয়ে গেলেও বাগুইআটির জগৎপুরের চড়কতলায় এক যুবককে খুনের ঘটনায় তাঁর স্ত্রীর খোঁজ মিলল না। তবে, এই ঘটনায় ওই মহিলার এক পরিচিতকে বুধবার রাতেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে যা তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তাতে তদন্তকারীরা এক প্রকার নিশ্চিত যে, ভোলা হালদার নামে ওই যুবককে খুনের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত।
প্রসঙ্গত, ভোলা ও তাঁর স্ত্রী চড়কতলায় একটি বাড়ির একতলায় গত কয়েক মাস ধরে ভাড়া থাকছিলেন। বুধবার সেখান থেকেই রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ভোলার দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত। বুধবার সকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুনতে পেয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। ভোলার দেহ উদ্ধার হওয়ার পরে রাতে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় এক ব্যক্তি।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের দেহের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রে আঘাতের ক্ষত ছিল। সেই সব আঘাতেরকারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান পুলিশের। বৃহস্পতিবার ভোলার দেহের ময়না তদন্ত করা হয়। কোন সময়ে হত্যার ঘটনাটি ঘটে, তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পরে স্পষ্ট হবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছিলেন, বুধবার দুপুরে পোড়া গন্ধ পেয়ে ওই বাড়ির মালিক একতলার ঘরে খোঁজ নেন। তখন ভোলার স্ত্রী বেরিয়ে এসে জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামী বাড়িতে নেই। স্থানীয়দের সন্দেহ, কোনও পোশাক পোড়ানোর চেষ্টা হচ্ছিল। যা থেকে আসছিল ওই পোড়া গন্ধ। এর পরেই বাড়িওয়ালা বিষয়টি জানান প্রতিবেশীদের। বাড়ির কাছে একটি পুজো মণ্ডপ থেকেও লোকজন ছুটে আসেন। তখন আর ভোলার স্ত্রীর খোঁজ মেলেনি।
তদন্তে নেমে বাড়িওয়ালা-সহ কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য পায় পুলিশ। এর পরে ওই গৃহবধূর পরিচিত এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ সূত্রের খবর, গোটা ঘটনায় তৃতীয় কারও হাত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সকলের নজর এড়িয়ে ভোলার স্ত্রী কী ভাবে ঘটনাস্থল থেকে পালালেন, তা-ও দেখা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)