Advertisement
E-Paper

জলকরে নারাজ, অপচয় রুখতে ভরসা তাই ঘুরপথ

সেই নাকই দেখাবে। তবে সরাসরি নয়, ঘুরপথে। এমন তকমা এ রাজ্যের ক্ষেত্রে নতুন নয়। স্মার্ট সিটি মিশন প্রকল্পে বিধাননগরের জল পরিষেবায় নতুন পরিকল্পনা ঘিরে ফিরে এসেছে সেই কর চালু করার বিতর্কই।

কাজল গুপ্ত

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০১৬ ০১:৪০

সেই নাকই দেখাবে। তবে সরাসরি নয়, ঘুরপথে। এমন তকমা এ রাজ্যের ক্ষেত্রে নতুন নয়। স্মার্ট সিটি মিশন প্রকল্পে বিধাননগরের জল পরিষেবায় নতুন পরিকল্পনা ঘিরে ফিরে এসেছে সেই কর চালু করার বিতর্কই।

স্মার্ট সিটি মিশন প্রকল্পের শর্তগুলির অন্যতম জলকর চালু করা। কিন্তু জনমোহিনী নীতি অনুসরণ করতে গিয়ে দীর্ঘ দিন এ রাজ্যে তা চালু করা যায়নি। সেই ধারাই বজায় রয়েছে স্মার্ট সিটি মিশনের ক্ষেত্রেও।

তাই ‘সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না’ গোছের কৌশলে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বিধাননগর পুরনিগম। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জল অপচয় রুখতে মিটার বসানোর পাশাপাশি দৈনিক কত জল ব্যবহার হচ্ছে, প্রযুক্তির (স্কাডা) সাহায্যে তার বিস্তারিত হিসেব নেবে পুরনিগম। পুরকর্তাদের দাবি, সেই হিসেব পেলেই জলের অপচয় যেখানে হবে, সেই অনুসারে পদক্ষেপও করা সম্ভব হবে।

Advertisement

অথচ প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের মতে, জলকর চালু করলে যেখানে স্বাভাবিক নিয়মেই অপচয় অনেকটা কমে, সেখানে তা রুখতে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই পরিকল্পনাকে ঢেলে সাজিয়ে স্মার্ট সিটি মিশন প্রকল্পের প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছে নিউ টাউন। সে পথে হেঁটেই বিধাননগর তাদের পরিকল্পনাকে আরও গতিশীল এবং নতুন নতুন ভাবনায় সমৃদ্ধ করেছে। বিধাননগর পুরনিগম সূত্রে খবর, ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার বন্ধ করে ভূপৃষ্ঠের জল ব্যবহার করা, পাম্পগুলিতে জলের মিটার বসানোর মতো পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল আগেই। এ বারের ভাবনা প্রযুক্তির সাহায্যে জলের অপচয় রোধ।

সেখানেই নতুন করে ফিরে এসেছে সেই পুরনো বিতর্ক। বিনা অর্থে কোনও পরিষেবা মেলে না। বিশ্ববাজারে এটাই স্বীকৃত। ব্যতিক্রম পশ্চিমবঙ্গ।

সল্টলেকে ভূগর্ভস্থ এবং টালা-পলতার জল মিশিয়ে সরবরাহ করা হয়। সেই জলের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয় বিভিন্ন ভাবে। তার মধ্যে যেমন রয়েছে পরিকাঠামোর ত্রুটির জেরে অপচয়, তেমনই গাড়ি ধোওয়া, বাগানের কাজ থেকে শুরু করে নজরদারির অভাবে স্রেফ পড়ে গিয়ে নষ্ট হয় বিপুল পরিমাণ জল। দীর্ঘ দিন সে সমস্যার কোনও সমাধান করা যায়নি।

জলকর চালু করা যায়নি বাম আমলেও। কারণ হিসেবে তাদের একাংশের দাবি ছিল, রাজ্যবাসীর একটি বড় অংশের মাথাপিছু যা আয়, সেখানে জলকর দেওয়া তাঁদের সাধ্যের বাইরে।
ক্ষমতায় আসার পরে তৃণমূলও সেই একই পথে হেঁটে চলেছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের দাবি, স্রেফ ভোটের দিকে তাকিয়েই এমন জনমোহিনী নীতি।

বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত বলেন, ‘‘মানুষের উপরে জলকর চাপিয়ে দেওয়া দলীয় নীতির বাইরে। ফলে তা সম্ভব নয়।’’ তবে এর পাশাপাশি সব্যসাচীবাবু দাবি করেছেন, প্রযুক্তির সাহায্যে জল পরিষেবার অপচয়-সহ অন্য খরচগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে সেই আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে
আনা সম্ভব। সেই ভাবনা থেকেই এই পরিকল্পনা।

তবে সরাসরি জলকর চালু করলে আয় বৃদ্ধির যে সম্ভাবনা থাকে, তা ঘুরপথে কতটা সম্ভব? সে প্রশ্নের অবশ্য কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

বিধাননগরের বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, মূল সল্টলেকের বহু লোক দীর্ঘ দিন ধরে পরিস্রুত পানীয় জল কিনতে বাধ্য হয়েছেন। সেখানে পরিস্রুত পানীয় জলের জন্য কর দিতে আপত্তি কোথায়? তাঁদের বক্তব্য, যাঁদের জলকর দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিকল্পনা নিক প্রশাসন।

এই বিষয়ে অবশ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের দাবি, আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী বি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy