প্রথমবার কিনতে গেলে রান্নার গ্যাসের পাঁচ কেজির সিলিন্ডারের দাম পড়ে ৭০০ টাকা। পরে সিলিন্ডার ভরতে লাগবে ৫০০।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে বাণিজ্যিক এলপিজি-তে টান পড়ায় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক এখন এই পাঁচ কেজির সিলিন্ডারের জোগান বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে। ছোট খাবারের দোকানের মালিকদের জন্য, জরুরি প্রয়োজনে গৃহস্থের জন্য। বিশেষত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য। অথচ ‘ছোটু’ বলে পরিচিত ৭০০ টাকার সেই সিলিন্ডারই এখন দেশের রাজধানীতে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় কালোবাজারে বিকোচ্ছে। রান্নার গ্যাস বণ্টনকারীদের কাছে গেলে শোনা যাচ্ছে, পাঁচ কেজির সিলিন্ডার নেই। কিন্তু সেই বণ্টনকারী, অর্থাৎ এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের লোকেরাই ১৮০০-২০০০ টাকায় সিলিন্ডার দিয়ে দিচ্ছেন। যার অর্থ, এক এক কেজি এলপিজি-র জন্য ৩৫০-৪০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
দিল্লিতে কাজ করতে আসা পরিযায়ী শ্রমিকরা এ নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, এত দামে সিলিন্ডার কিনে পেট চলবে কী করে? রাস্তার ধারের খাবারের দোকানের মালিকদেরও এই সিলিন্ডার কিনতে চড়া দাম গুণতে হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, গৃহস্থের জন্য ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারেরও কালোবাজারি হচ্ছে। তার জন্য ৪০০০-৫০০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সহজে মিলছে না। পাঁচ কেজির সিলিন্ডার মিলছে। কিন্তু চড়া দামে। দিল্লির রাস্তার ধারের চায়ের দোকান, ছোট খাবারের দোকানে তাই চা, খাবারের দাম বেড়ে গিয়েছে।
সোমবার পেট্রলিয়াম মন্ত্রক সমস্ত রাজ্যকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, পাঁচ কেজির সিলিন্ডারের জোগান দ্বিগুণ করা হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা মঙ্গলবার জানান, এগুলি ২৩ মার্চ থেকে বিক্রি হয়েছে ৭.৮ লক্ষ। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি গত চার দিনে ১৩০০টি সচেতনতা শিবির করেছে। সেখানেও বিক্রি হয়েছে ১০,০০০ ছোটু সিলিন্ডার। ফেব্রুয়ারিতে গড়ে দৈনিক ৭৭,০০০ সিলিন্ডার বিক্রি হত। সেই তুলনায় সোমবার বিকিয়েছে ১.০৬ লক্ষ পাঁচ কেজির সিলিন্ডার।
তেল সংস্থার সূত্রের বক্তব্য, মুশকিল হল পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ছোটু সিলিন্ডারের কথা বলা হলেও, এটি কিনতে কোনও ঠিকানার প্রমাণ দিতে হয় না। শুধু সচিত্র পরিচয়পত্র দেখালেই চলে। ফলে কালোবাজারির সুযোগ রয়েছে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, রাজ্যগুলিকে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে ওই সিলিন্ডার বিক্রি দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সুজাতা জানান, ইতিমধ্যেই কালোবাজারি, বেআইনি মজুতদারি রুখতে দেশ জুড়ে ৪৩০০ তল্লাশি হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হয়েছে ১২০০টি সিলিন্ডার। তেল সংস্থাগুলি ১৭০০ কারণ দেখানোর নোটিস পাঠিয়েছে। ১৬৮টি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের জরিমানা হয়েছে। ৪৫টির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)