এ রাজ্যে ট্রাফিক পুলিশ কর্মীদের ‘হেনস্থা’ হওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই কখনও রাজনৈতিক দলের নেতা, কখনও তাঁদের আত্মীয়স্বজন, আবার কখনও বা সাধারণ নাগরিকের হাতে ‘মারধর’ খেতে হয় পুলিশকে। সেই তালিকাতেই এ বার যুক্ত হল বালি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত আটটা নাগাদ দুই নম্বর জাতীয় সড়কে বালি হল্ট সেতুর উপরে রাস্তার প্রায় মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল একটি লাক্সারি ট্যাক্সি। এর ফলে যানজট হয়ে যাচ্ছিল দেখে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকর্মী গিয়ে গাড়িটি সরিয়ে নিতে বলেন। অভিযোগ, তাতেই ট্যাক্সির যাত্রী ক্ষেপে গিয়ে ওই পুলিশকর্মীকে মারধর শুরু করেন। পরে ওই যাত্রী ও গাড়ির চালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ওই সময়ে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে ডিউটি করছিলেন বালি মাইতিপাড়া সাব ট্রাফিক গার্ডের এএসআই তুষারকান্তি বৈদ্য। তুষারবাবুর দাবি, ডানকুনিমুখী রাস্তার দিকে বালি হল্ট বাস স্টপের সামনেই প্রায় মাঝ রাস্তায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে লাক্সারি ট্যাক্সিটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তা সরিয়ে নিতে বলেন। অভিযোগ, তখনই চালকের পাশে বসে থাকা যুবক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। ওই যুবক দাবি করেন, তাঁদের যতক্ষণ খুশি গাড়ি রাস্তাতে দাঁড় করিয়ে রাখবেন কেউ কিছু করতে পারবে না। তাই পুলিশ যেন নিজের কাজ করে। তখনই তুষারকান্তিবাবু ওয়াকিটকি মারফৎ ব্রেকডাউন ভ্যান ঘটনাস্থলে পাঠাতে বলেন।
তুষারবাবুর অভিযোগ, তাতে গালিগালাজ আরও বেড়ে যায়। রাস্তাতেও যানজট তৈরি হয়। এরই মধ্যে ব্রেকডাউন ভ্যানটি এলে, ওই যুবক গাড়ি থেকে নেমে ‘কেটে ভাসিয়ে দেব’ বলে হুমকি দিতে থাকেন ও আচমকাই তুষারকান্তিবাবুর জামার কলার ধরে ঘুষি মারতে শুরু করেন। অন্যান্য অফিসারেরা এসে ওই যুবককে পাকড়াও করেন। পরে বালির ঘোষপাড়ার বাসিন্দা পিন্টু মিশ্র নামের ওই যুবক ও গাড়ির চালক বিশ্বজিৎ মান্নাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।