Advertisement
E-Paper

নিরপেক্ষতার দাবি তুলে ঢুকে পড়ল রাজনীতিও

টলিউড তারকাদের আনাগোনা ছিলই। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা নিয়ে গিয়েছিলেন রাজ্যের এক মন্ত্রীও। এ বার সানি পার্কের ঘটনায় সরাসরি ঢুকে পড়লেন রাজনীতির লোকজন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৬ ০১:১৩
আবেশের বাড়িতে রাজনীতিকদের ভিড়। লকেট চট্টোপাধ্যায়।

আবেশের বাড়িতে রাজনীতিকদের ভিড়। লকেট চট্টোপাধ্যায়।

টলিউড তারকাদের আনাগোনা ছিলই। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা নিয়ে গিয়েছিলেন রাজ্যের এক মন্ত্রীও। এ বার সানি পার্কের ঘটনায় সরাসরি ঢুকে পড়লেন রাজনীতির লোকজন। যদিও আবেশের পরিবারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি রাজনীতির সংস্রব এড়িয়েই চলতে চান তাঁরা। ঘটনার দু’দিন পরে গত সোমবার রাতে আবেশের বাড়ি যান যুবকল্যাণ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি অবশ্য গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ‘সুবিচারের আশ্বাস’-এর বার্তা নিয়ে। এর পরে মঙ্গলবার আবেশের বাড়িতে পৌঁছন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেত্রীরা। যদিও তাঁরা আবেশের বাড়িতে না ঢুকে বাইরেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে যান।

বুধবার দুপুর থেকে একে একে আবেশের বাড়ি আসেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিরোধী দলনেতা, কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান ও সিপিএমের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। তবে আবেশের পরিবারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, রাজনীতিকে তাঁরা এই ঘটনা থেকে দূরেই রাখতে চান। সে জন্য বাড়ির ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি মান্নান-সুজনদের। তাঁরা বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলেই বেরিয়ে যান। লকেটকে অবশ্য ঢুকতে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে আবেশের পরিবারের যুক্তি, লকেট অভিনেত্রী হওয়ার কারণে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। সে কারণেই তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন আবেশের অভিভাবকেরা।

সুজন চক্রবর্তী ও আব্দুল মান্নান।

Advertisement

রাজনীতি দূরে রাখলেও এই মৃত্যুর সুবিচারের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র করার ডাক দিয়েছে আবেশের পরিবার। সেখানে সব অংশের মানুষকেই সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেশের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার সুবিচারের দাবিতে আগামী শনিবার আবেশের বাড়ি থেকে সানি পার্ক অ্যাপার্টমেন্টস পর্যন্ত মৌন মিছিল করা হবে।

সানি পার্কের ঘটনার পরে এ দিনই আবেশের ঠাকুরমা, ৮২ বছরের বৃদ্ধা দীপালি দাশগুপ্ত প্রথম সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন। তিনিও এ দিন পুলিশের কাছে ‘বিচার নয়, সুবিচার’ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘সে দিনও যাওয়ার সময়ে আমাকে বলে গিয়েছিল, পার্টি থেকে এসে সব গল্প করবে। আর তো ফিরলই না। ক’মাস আগেই ছেলেটা চলে গিয়েছে। নাতিকে নিয়েই আমার সব স্বপ্ন ছিল। সে-ও চলে গেল। এখন একমাত্র ওর হত্যার কিনারা হলেই আমি শান্তি পাব।’’ আবেশের ঠাকুরমার অভিযোগ, ‘‘বুধবার হয়ে গেল। পুলিশ কিছুই বলছে না। সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পরে কি পুলিশ সব বলবে! পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে আমরা বিচার নয়, সুবিচার দাবি করছি।’’

পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন আবেশের দিদা কৃষ্ণা পালও। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কেন ঘটনার পরপরই ওর বন্ধুদের ডেকে জেরা করা হল না। তা হলে অত তাড়াতাড়ি সাজিয়ে-গুছিয়ে মিথ্যা বলতে পারত না। এত দিন পরে মোবাইল চেয়েই বা কী হবে! সবই তো মুছে দিয়েছে। নীল ছাড়া আবেশের অনেক বন্ধুও ছিল। নীল হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল বলে ওর জামাকাপড় নিয়েছে পুলিশ। বাকিদের জামাকাপড় কেন পরীক্ষা করে দেখা হল না?’’ কৃষ্ণাদেবীর অভিযোগ, ঘটনার দিন হাসপাতালে আবেশের বন্ধুরা বারবারই তাঁকে এড়িয়ে যাচ্ছিল। কিছুই স্পষ্ট করে বলছিল না। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এক জন নিজেকে হাইকোর্টের আইনজীবী বলে পরিচয় দিয়ে ওদের বারবারই সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।’’

এ দিন দুপুর দু’টো নাগাদ আবেশের বাড়িতে আসেন লকেট। আবেশের মা-দিদিমার সঙ্গে দেখা করার পরে তিনিও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘‘সত্য সামনে আসুক। বোঝাই তো যাচ্ছে, এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়। খুনিকেও চিহ্নিত করা তেমন কঠিন কাজ নয়। তা হলে পুলিশ কেন গড়িমসি করছে, বুঝতে পারছি না। কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপেই তদন্ত ব্যাহত হচ্ছে। আবেশের বন্ধুরাই বা সামনে আসছে না কেন? তিনি বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে ওই পরিবারের কথা হয়েছে। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত না করলে, প্রয়োজনে আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব। তত্ত্বাবোধানে তদন্ত হোক, না হলে সিবিআই-এর হস্তক্ষেপ চাইব।’’

একই অভিযোগ করেন কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান এবং সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী, তন্ময় ভট্টাচার্যেরা। তাঁদের দাবি, ঘটনায় অভিযুক্ত এক জনের সঙ্গে টলিউডের এক প্রযোজকের এবং এক আইএএস অফিসারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের প্রভাবেই তদন্তে ঢিলেমি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মান্নান, সুজনেরা। তবে মান্নানদের সঙ্গে আবেশের মা এবং দিদা এ দিন দেখা করেননি। আবেশের মামা সুজনবাবুদের বলেন, তাঁরা খুবই ক্লান্ত। এর পরে আব্দুল মান্নান তাঁকে বলেন, ‘‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা। টলিউডের প্রযোজক, আমলা এবং মন্ত্রী পর্যন্ত প্রভাব খাটাচ্ছেন! যদি কোথাও আপনাদের তদন্তে প্রভাব খাটানো হচ্ছে মনে হয়, তবে যোগাযোগ করবেন। তদন্তে নিরপেক্ষতা রাখতে ব্যবস্থা নেব।’’

এ দিন আবেশের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান সুবোধ সরকার, সমীর আইচ, দেবজ্যোতি মিশ্র এবং বিদীপ্তা চক্রবর্তী। ওই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আবেশকে নিয়ে লেখা এবং তাঁর নিজের সুর দেওয়া একটি গানও গান দেবজ্যোতিবাবু।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy