আগামী দিনে কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি করের পরিমাণ বাড়তে পারে। পুরসভা সূত্রে খবর, রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই সম্পত্তি করের নতুন করে মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে, বুধবার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে কলকাতা পুরসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে সম্পত্তি কর মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায় বিভাগের সমস্ত ইউনিটের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের ডাকা হয়েছে। আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেই কর কাঠামো ও আদায় ব্যবস্থা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মেয়র। উল্লেখ্য, কর ও রাজস্ব বিভাগ বর্তমানে সরাসরি মেয়রের তত্ত্বাবধানেই রয়েছে।
পুরসভার কর বিভাগের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, “সম্পত্তি কর খাতে যে অর্থ পুর-কোষাগারে ঢুকছে, তা বর্তমান আর্থিক চাপের তুলনায় মোটেই যথেষ্ট নয়। পুরসভার উপর বিপুল ব্যয়ের বোঝা রয়েছে। কোথায় ঘাটতি হচ্ছে, কোন এলাকায় কর আদায় কম—তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।” তাঁর কথায়, ‘‘কর আদায় না বাড়লে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ যেমন ব্যাহত হবে, তেমনই কর্মীদের বকেয়া গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য প্রাপ্য মেটাতেও সমস্যা বাড়বে।’’ কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি কর মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায় বিভাগ মোট আটটি ইউনিটে বিভক্ত। পরিসংখ্যান বলছে, জোকা ইউনিটে গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি কর আদায় হয়েছে। অন্য দিকে, গার্ডেনরিচ ইউনিটে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ কম আদায় হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বেশ কয়েকটি ইউনিটেও প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব ওঠেনি। এই বৈষম্যের কারণেই নতুন করে সম্পত্তি করের মূল্যায়ন ও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজস্ব বিভাগের আধিকারিকদের একাংশ।
আরও পড়ুন:
চলতি অর্থবর্ষে (১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬) এখনও পর্যন্ত সম্পত্তি কর থেকে আদায় হয়েছে প্রায় ১,০৭৪ কোটি ২১ লক্ষ টাকা। গত বছর একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১,০৪৪ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ২৯ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা বেশি আদায় হয়েছে। শতাংশের হিসাবে গত এক বছরে পুরসভার আয় বেড়েছে প্রায় ৯.৩২ শতাংশ। তবে আধিকারিকদের মতে, এই বৃদ্ধি পুরসভার সামগ্রিক ব্যয়ের তুলনায় মোটেই যথেষ্ট নয়। পুরসভার মাসিক ব্যয়ই ১২০ থেকে ১২২ কোটি টাকার কাছাকাছি। এর মধ্যে স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন, বিভিন্ন ভাতা এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন রয়েছে। বার্ষিক হিসাবে এই অঙ্ক ১,৪০০ কোটি টাকারও বেশি। তার উপর গত প্রায় এক বছর ধরে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গ্র্যাচুইটির টাকা বকেয়া পড়ে আছে। বিদ্যুৎ বিল, দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং ঠিকাদারদের কাছে ৭০০ কোটিরও বেশি বকেয়া মিলিয়ে আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে পুরসভার নিজস্ব আয় বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই বলেই মত আধিকারিকদের। সেই কারণেই সম্পত্তি করের নতুন মূল্যায়ন, আদায়ে কড়া নজরদারি এবং প্রয়োজনে করের হার পুনর্বিবেচনার দিকেই এগোতে পারে কলকাতা পুরসভা।