এ যেন মৃতদেহ আনতে গিয়ে নিজেরই মরণযাত্রা ডেকে আনা।
বন্দর এলাকার মোমিনপুরে কাঁটাপুকুর মর্গের সামনে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তায় বর্ষায় বিশাল বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে রয়েছে। সেখানে যে কোনও ছোট গাড়ি গর্তে পড়ে বেসামাল হয়ে উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ওই মর্গে দিনে গড়ে প্রায় ৩০-৩৫টি মৃতদেহের ময়না তদন্ত হয়। মর্গের সামনের ওই রাস্তা ছাড়া যাতায়াতের কোনও বিকল্প পথও নেই। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এমনকি সুন্দরবন থেকেও ময়না তদন্তের জন্য দেহ ওই মর্গে আনা হয়। কলকাতা পুলিশ এলাকার দক্ষিণ কলকাতার অধিকাংশ থানার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাতেও ময়না তদন্ত হয় কাঁটাপুকুর মর্গেই।
মর্গের এক কর্মীর কথায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছোট মালবাহী গাড়িতে দেহ আসে। আর ওই সব গাড়িতে মৃতদেহের সঙ্গে থাকেন আত্মীয়েরাও। গর্তে গাড়ির চাকা পড়ে গিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে। গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে গিয়েছেন কয়েক জন। এক পুলিশকর্মীর টিপ্পনী, ‘‘রাস্তায় এমন বড় বড় গর্ত যে প্রায় মাছ চাষ করা যাবে।’’
সূত্রের খবর, ওই রাস্তা কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে। ফলে মেরামতির দায়িত্বও তাঁদেরই। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের কর্তাদের একাংশের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোনও হেলদোল নেই। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগেও এমনই বেহাল হয়ে গিয়েছিল ওই রাস্তা। একাধিক বার বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার হয়নি। তখন একটি সরকারি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন নগরোয়ন্নন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। ওই রাস্তা দিয়েই মন্ত্রী ও মেয়রের গাড়ি গিয়েছিল। এলাকার বাসিন্দাদের অনুরোধে মন্ত্রী-মেয়র ওই রাস্তায় ‘প্যাচওয়ার্ক’ করিয়ে দিয়েছিলেন। বছর তিনেক তার ভরসাতেই চলছিল।
স্থানীয়েরা জানিয়েছেন, ওই রাস্তায় দিন-রাত বড় বড় ট্রেলার চলাচল করে। রাস্তার শেষ প্রান্তে রয়েছে ওই সব ট্রেলারের গ্যারাজও। কাঁটাপুকুর মর্গের অধিকর্তা উমাপ্রসন্ন ঘোষাল বলেন, ‘‘এটা ভয়াবহ সমস্যা হয়ে উঠেছে। রাস্তাটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে। আর মর্গটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের অধীনে। আমরা দু’দফতরকেই সমস্যাটি জানিয়েছি। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।’’ মর্গের দায়িত্বে থাকা কলকাতা পুলিশের এক কর্মীর কথায়, অধিকাংশ দিন মৃতদেহের ময়না তদন্ত করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। একে ওই রাস্তায় কোনও আলোর ব্যবস্থা নেই। তার উপরে এই বেহাল অবস্থা, দুর্ঘটনা না ঘটলেই ভাবতে হবে যে ভাগ্য ভাল।’’
তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা শাসক ওয়াই রত্নাকর রাও অবশ্য বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ওই রাস্তা সংস্কারের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘ওই রাস্তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরেই আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’’ এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কলকাতা বন্দরের মুখ্য বাস্তুকার এ কে জৈন বলেন, ‘‘বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’’