গিরিশ পার্কে অশান্তি এবং রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনায় আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের রবিবার আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত তাঁদের ১৯ মার্চ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। বিজেপির দাবি, ধৃতদের মধ্যে ছ’জন তাদের দলের কর্মী। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও এনেছে তারা।
গিরিশ পার্ককাণ্ডে স্বতঃপ্রবৃত্ত মামলা করেছিল পুলিশ। তার পরে শনিবার গভীর রাতে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি দু’পক্ষই। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। ঘটনায় মোট আটজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম প্রসাদ জয়সওয়াল, প্রসূন পাত্র, বিকি বেরা, গোবিন্দ কর্মকার, দীপজিৎ দাস, সানি দে, চরণজিৎ সিংহ, কৃশানু বসু, রাজেশ কুমার। রবিবার ধৃতদের আদালতে যখন হাজির করানো হয়, তখন জয় শ্রীরাম স্লোগান ওঠে। ধৃত এক জন পুলিশের ভ্যানে থেকে বলেন, ‘‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। ওরা নিজেরাই পরিকল্পনা করেছে।’’ ধৃত বিকির মা জানান, তাঁর পুত্র রাজনীতি করেন না। শনিবার ব্রিগেড বা গিরিশ পার্ক, কোথাও তিনি যাননি। তবু তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলির সহসভাপতি প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, ‘‘এটা তৃণমূল থেকে করা হচ্ছে। ভোটে তৃণমূল জিতবে না বুঝে এ সব করা হচ্ছে। যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা ঘটনাস্থলে ছিলেন না।’’ ওই বিজেপি নেতা আরও জানান, ধৃত সানি যে গাড়িতে ছিলেন, সেটি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘ধৃতদের মধ্যে পাঁচ জন বরাহনগরের বিজেপি কর্মী। বাকি চার জনের মধ্যে এক জন বিজেপি কর্মী। বাকি তিন জনকে আমি চিনি না।’’
শনিবার দুপুরে ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা ছিল। সেই সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। সে সময় গিরিশ পার্কে অশান্তি শুরু হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, মোদীর সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় একদল বিজেপি কর্মী রাজ্যের মন্ত্রী শশীর বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা তাদের বাস লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন। আহত হন বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী। ব্রিগেডগামী বাসেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি। মন্ত্রী শশী জানান ওই ঘটনায় তিনি ‘আক্রান্ত’ হয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ উঠে আসে ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেও। অশান্তি থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশও। দু’পক্ষের অশান্তির মধ্যে পড়ে আহত হন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর। পুলিশ পরে জানায়, ওই ঘটনায় আট জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিরিশ পার্কে যায় পুলিশের বিরাট বাহিনী এবং র্যাফ। কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ জানিয়ে দেয়, এই অশান্তির ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের খুঁজে বার করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা শুরু করে পুলিশ। পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়। অবৈধ ভাবে জমায়েত, খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, অস্ত্র দিয়ে আঘাত, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। এ ছাড়াও ডব্লিউবিএমপিও আইনের ধারাও যোগ করা হয়।
আরও পড়ুন:
বিজেপি নেতা সজল ঘোষের দাবি, তাঁদের দলের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন চরণজিৎ, সানি দে এবং কৃশানু। বরাহনগর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সজলের কথায়, ‘‘ওরা নির্দোষ। অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’ এই গ্রেফতারির প্রতিবাদে বরাহনগর থানা ঘেরাও করে বিজেপি। গিরিশ পার্কের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বার ওই ঘটনায় আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হল।