পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে করোনার ছল। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হল না। পুলিশকে ভয় পাওয়াতে এমন চেষ্টাই করেছিল এক সময়ের কুখ্যাত তোলাবাজ বিনোদ শেখ। বার বার চিৎকার করে বলছিল, ‘‘আমি করোনার রোগী। আমার করোনা হয়েছে।’’
শুনে পুলিশকর্মীরা প্রথমে কিছুটা চমকে গিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, সত্যিই হয়তো করোনা হয়েছে ওই দুষ্কৃতীর। কিন্তু ভুল ভাঙল তার পরেই। জানা গেল, তার করোনা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু দু’মাস আগে! এর পরে রাতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৭ অগস্ট পূর্ব পুটিয়ারির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ম্যানেজার থানায় অভিযোগ দায়ের করে জানান, তাঁর ব্যাঙ্কের একটি অ্যাকাউন্টে প্রায়ই প্রচুর টাকা ঢুকছে এবং তোলা হচ্ছে। এর মধ্যেই বিহারের পটনার বাসিন্দা, কুমার আনন্দ নামে এক ব্যক্তি ওই ম্যানেজারকে ফোন করে জানান, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কেউ টাকা তুলে নিচ্ছে। আর সেই টাকা ঢুকছে পূর্ব পুটিয়ারি শাখারই একটি অ্যাকাউন্টে। খোঁজ করে দেখা যায়, সেটি চমন সিংহ নামে এক জনের অ্যাকাউন্ট। চমন সিংহকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, পূর্ব পুটিয়ারির ওই অ্যাকাউন্টটি শেখ বিনোদ তাকে খুলতে বলেছিল।
এর পরেই সোমবার রাতে শেখ বিনোদের বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ। প্রতারণার মামলায় পুলিশ তাকে ধরতে এসেছে শুনেই বিনোদ নিজেকে করোনা রোগী বলে দাবি করতে থাকে। পুলিশ প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও পরে তাকে গ্রেফতার করে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। পাওয়া যায় আটটি অ্যাকাউন্টের হদিস।
পুলিশের এক তদন্তকারী অফিসার জানিয়েছেন, অনলাইনে প্রতারণা করে পাওয়া টাকা ওই সমস্ত অ্যাকাউন্টেই ঢুকত। এখনও পর্যন্ত কত টাকা ঢুকেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিনোদকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক এক দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।