যুবভারতীকাণ্ডে এ বার দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে উদ্যোগী হতে চলেছে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। দর্শকদের যে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত, তা প্রথম দিনেই বলে দিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসির সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতারের পরেই নিজেদের মনোভাব বুঝিয়ে দিয়েছিল রাজ্য পুলিশ। এ বার সেই মতো তোড়জোড়ও শুরু করে দিল।
সূত্রের খবর, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে সিট। ইতিমধ্যে কিছু দর্শকের সঙ্গে কথা বলেছেন সিটের তদন্তকারী আধিকারিকেরা। অনলাইনে যে সংস্থার মাধ্যমে যুবভারতীতে মেসি-দর্শনের টিকিট বিক্রি হয়েছিল, সেই সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেছে সিট। টিকিট বিক্রি সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। এ বার সেই তথ্যের ভিত্তিতেই দর্শকদের টাকা ফেরত দিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা।
ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসিকে দেখার জন্য দর্শকেরা মোটা টাকার টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু মেসিকে তাঁরা ঠিকমতো দেখতেই পাননি বলে অভিযোগ। সেই ক্রোধ আছড়ে পড়ে যুবভারতীতে। চলে ভাঙচুর, তাণ্ডব। ওই বিশৃঙ্খলার পরে গ্রেফতার হন মেসি সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত। তাঁকে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক দফা জেরা করেছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে তিনি জেলে রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, মেসিকে ভারত সফরে আনার জন্য কর-সহ প্রায় ১০০ কোটি খরচ হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন শতদ্রু। বিভিন্ন স্পনসর, টিকিট বিক্রি এবং অন্য রাজ্যগুলিতে মেসির সফর থেকে এই টাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে দাবি শতদ্রুর। পাশাপাশি শতদ্রুর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২২ কোটি টাকা রয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি অনলাইনে কত টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং মোট কত সংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়েছে— সেই সব তথ্যও ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছে সিট। টিকিট বিক্রির টাকা থেকে শতদ্রুর সংস্থা কত পেয়েছে এবং অনলাইনে বিক্রেতা সংস্থার কাছে কত গিয়েছে, তা-ও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই অনলাইন সংস্থা জানিয়েছিল মোট ১৯ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু তথ্য সিটের হাতে এসেছে। সেই সব তথ্যের উপর ভিত্তি করেই দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে আইনি প্রক্রিয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।